সূরা আল-ওয়াকিয়া সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা | অর্থ, তাফসির ও শিক্ষনীয় বিষয়
পবিত্র কুরআনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ সূরাগুলোর মধ্যে সূরা আল-ওয়াকিয়া অন্যতম। এই সূরাটি মূলত কিয়ামত, মানুষের পরিণতি, জান্নাত ও জাহান্নামের অবস্থা এবং আল্লাহর অসীম ক্ষমতা সম্পর্কে গভীর আলোচনা করে। মানুষের জীবনের চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে—সেটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই সূরা মানুষকে আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাকওয়া এবং নেক আমলের দিকে আহ্বান করে। এই সূরা মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবীর জীবন সাময়িক, কিন্তু আখিরাতের জীবন চিরস্থায়ী। তাই একজন মুমিনের উচিত দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের সফলতার জন্য প্রস্তুতির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা।
সূরার মৌলিক পরিচিতি
- সূরার নাম: সূরা আল-ওয়াকিয়া (سورة الواقعة)
- কুরআনের ক্রম: ৫৬ নম্বর সূরা
- আয়াত সংখ্যা: ৯৬
- রুকু: ৩
- অবতীর্ণ স্থান: মক্কা (মাক্কী সূরা)
- প্রধান বিষয়: কিয়ামত ও আখিরাত
“ওয়াকিয়া” শব্দের অর্থ ঘটনা বা অনিবার্য ঘটনা, যা এখানে কিয়ামত দিবসকে বোঝায়।
সূরার নামকরণ
“আল-ওয়াকিয়া” শব্দটি সূরার প্রথম আয়াতে এসেছে:
إِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ
“যখন সেই অনিবার্য ঘটনা (কিয়ামত) সংঘটিত হবে।” — (কুরআন ৫৬:১)
এই কারণে সূরাটির নাম রাখা হয়েছে সূরা আল-ওয়াকিয়া।
সূরা আল-ওয়াকিয়ার বাংলা অর্থ
- ১. যখন সেই অনিবার্য ঘটনা (কিয়ামত) ঘটবে,
- ২. তখন তার ঘটার বিষয়ে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।
- ৩. তা কাউকে নিচে নামাবে এবং কাউকে উঁচু করবে।
সূরা আল-ওয়াকিয়ার প্রধান বিষয়বস্তু
এই সূরার বিষয়বস্তু অত্যন্ত গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ।
১. কিয়ামতের ভয়াবহতা – এই সূরা কিয়ামতের দিন ঘটবে এমন ঘটনাগুলো বর্ণনা করে।
২. মানুষের তিনটি শ্রেণি – কিয়ামতের দিন মানুষ তিন ভাগে বিভক্ত হবে।
- সাবিকুন (অগ্রগামী মুমিন)
- আসহাবুল ইয়ামিন (ডানদিকের লোক)
- আসহাবুশ শিমাল (বামদিকের লোক)
৩. জান্নাতের বর্ণনা –সৎকর্মশীলদের জন্য জান্নাতের সুন্দর বর্ণনা রয়েছে।
৪. জাহান্নামের বর্ণনা – অবিশ্বাসীদের জন্য কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
৫. আল্লাহর ক্ষমতার নিদর্শন – মানুষের সৃষ্টি, পানি, আগুন ও খাদ্যের মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমতা দেখানো হয়েছে।
সুরা ওয়াকিয়ার আরবি ও বাংলা উচ্চারণ এবং এর অর্থ-
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম অর্থ: পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। إِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ বাংলা উচ্চারণ: ইজা-ওয়াকআতিল্ ওয়া-কিআহ্। ১. অর্থ: যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে। لَيْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ বাংলা উচ্চারণ: লাইসা লিওয়াকআতিহা কা-জিবাহ্। ২. অর্থ: তার সংঘটনের কোনোই অস্বীকারকারী থাকবে না। خَافِضَةٌ رَافِعَةٌ বাংলা উচ্চারণ: খা-ফিদাতুর রা-ফিআহ্। ৩. অর্থ: তা কাউকে ভূলুণ্ঠিত করবে এবং কাউকে করবে সমুন্নত। إِذَا رُجَّتِ الْأَرْضُ رَجًّا বাংলা উচ্চারণ: ইজা রুজ্জাতিল্ আরদু রজ্জা। ৪. অর্থ: যখন জমি প্রকম্পিত হবে প্রবল প্রকম্পনে। وَبُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا বাংলা উচ্চারণ: ওয়াবুস্সাতিল্ জিবা-লু বাস্সা। ৫. অর্থ: আর পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়বে। فَكَانَتْ هَبَاءً مُنْبَثًّا বাংলা উচ্চারণ: ফাকা-নাত্ হাবা-আম্ মুম্বাছ্ছা। ৬. অর্থ: অতঃপর তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে। وَكُنْتُمْ أَزْوَاجًا ثَلَاثَةً বাংলা উচ্চারণ: ওয়াকুনতুম্ আজওয়া-জান্ ছালা-ছাহ্। ৭. অর্থ: আর তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন দলে। فَأَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ বাংলা উচ্চারণ: ফাআসহা-বুল্ মাইমানাতি মা-আসহা-বুল্ মাইমানাহ্। ৮. অর্থ: সুতরাং, ডান পাশের দল; ডান পাশের দলটি কত সৌভাগ্যবান! وَأَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ বাংলা উচ্চারণ: ওয়াআসহা-বুল্ মাশ্আমাতি মা-আসহা-বুল্ মাশ্আমাহ্। ৯. অর্থ: আর বাম পাশের দল; বাম পাশের দলটি কত হতভাগ্য! وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ বাংলা উচ্চারণ: ওয়াস্সা-বিকু নাস্ সা-বিকুন। ১০. অর্থ: আর অগ্রগামীরাই অগ্রগামী। أُولَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ বাংলা উচ্চারণ: উলা-ইকাল্ মুকার্রাবুন। ১১. অর্থ: তারাই সান্নিধ্যপ্রাপ্ত। فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ বাংলা উচ্চারণ: ফি-জান্না-তিন্ নায়িম্। ১২. অর্থ: তারা থাকবে নিয়ামতপুর্ণ জান্নাতসমূহে। ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ বাংলা উচ্চারণ: ছুল্লাতুম্ মিনাল্ আউয়ালিন। ১৩. অর্থ: বহুসংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে, وَقَلِيلٌ مِنَ الْآخِرِينَ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া কালিলুম্ মিনাল্ আ-খিরিন। ১৪. অর্থ: আর অল্পসংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে। عَلَى سُرُرٍ مَوْضُونَةٍ বাংলা উচ্চারণ: আলা সুরুরিম্ মাওদুনাহ্। ১৫. অর্থ: স্বর্ণ ও দামি পাথরখচিত আসনে! مُتَّكِئِينَ عَلَيْهَا مُتَقَابِلِينَ বাংলা উচ্চারণ: মুত্তাকিয়িনা আলাইহা মুতাকা-বিলিন। ১৬. অর্থ: তারা সেখানে হেলান দিয়ে আসীন থাকবে মুখোমুখি অবস্থায়। يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ বাংলা উচ্চারণ: ইয়াতুফু আলাইহিম্ উইল্দা-নুম্ মুখাল্লাদুন। ১৭. অর্থ: তাদের আশপাশে ঘোরাফেরা করবে চিরকিশোরেরা, بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِنْ مَعِينٍ বাংলা উচ্চারণ: বিআক্ওয়া-বিঁও ওয়া আবা-রিক্বা ওয়া কাসিম্ মিম্ মায়িন। ১৮. অর্থ: পানপাত্র, জগ ও প্রবাহিত ঝরনার শরাবপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে, لَا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنْزِفُونَ বাংলা উচ্চারণ: লা-ইয়ুসোদ্দাউ-না আন্হা ওয়ালা-ইয়ুনজিফুন। ১৯. অর্থ: তা পানে না তাদের মাথা ব্যথা করবে আর না তারা মাতাল হবে। وَفَاكِهَةٍ مِمَّا يَتَخَيَّرُونَ বাংলা উচ্চারণ: ওয়াফা-কিহাতিম্ মিম্মা ইয়াতাখাইয়ারুন। ২০. অর্থ: আর (ঘোরাফেরা করবে) তাদের পছন্দমতো ফল নিয়ে। وَلَحْمِ طَيْرٍ مِمَّا يَشْتَهُونَ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া-লাহ্-মি তাইরিম্ মিম্মা ইয়াশ্তাহুন। ২১. অর্থ: আর পাখির গোশত নিয়ে; যা তারা কামনা করবে। وَحُورٌ عِينٌ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া হুরুন্ ইন। ২২. অর্থ: আর থাকবে ডাগরচোখা হুর, كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ বাংলা উচ্চারণ: কাআম্ছা-লিল্ লুলুয়িল্ মাকনুন্। ২৩. অর্থ: যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা, جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ বাংলা উচ্চারণ: জাজা-আম্ বিমা কানু ইয়ামালুন। ২৪. অর্থ: তারা যে আমল করত, তার প্রতিদানস্বরূপ। لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيمًا বাংলা উচ্চারণ: লা-ইয়াসমাউ-না ফিহা লাগ্ওয়াঁও ওয়ালা তাছিমা। ২৫. অর্থ: তারা সেখানে শুনতে পাবে না কোনো পাপের বা বেহুদা কথা; إِلَّا قِيلًا سَلَامًا سَلَامًا বাংলা উচ্চারণ: ইল্লা-কিলান্ সালা-মান্ সালা-মা। ২৬. অর্থ: শুধু এই বাণী ছাড়া; যা হবে শান্তিময়, নিরাপদ। وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া আসহা-বুল্ ইয়ামিনি মা আসহা-বুল্ ইয়ামিন। ২৭. অর্থ: আর ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল! فِي سِدْرٍ مَخْضُودٍ বাংলা উচ্চারণ: ফি সিদরিম্ মাখ্দুদ। ২৮. অর্থ: তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুলগাছের নিচে, وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া তালহিম্ মানদুদ। ২৯. অর্থ: আর কাঁদিভরা কলাগাছের নিচে, وَظِلٍّ مَمْدُودٍ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া জিল্লিম্ মামদূদিঁও। ৩০. অর্থ: আর বিস্তৃত ছায়ায়, وَمَاءٍ مَسْكُوبٍ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া মায়িম্ মাসকুব। ৩১. অর্থ: আর সদা প্রবাহিত পানির পাশে, وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া ফা-কিহাতিন্ কাছিরাহ। ৩২. অর্থ: আর প্রচুর ফলমূলে, لَا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ বাংলা উচ্চারণ: লা-মাকতুআতিঁও ওয়ালা-মামনুআহ্। ৩৩. অর্থ: যা শেষ হবে না। আর নিষিদ্ধও হবে না। وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া ফুরুশিম্ মারফুআহ্। ৩৪. অর্থ: (তারা থাকবে) সুউচ্চ শয্যাসমূহে; إِنَّا أَنْشَأْنَاهُنَّ إِنْشَاءً বাংলা উচ্চারণ: ইন্না আন্শানা-হুন্না ইন্শা-আ। ৩৫. অর্থ: নিশ্চয় আমি হুরদের বিশেষভাবে সৃষ্টি করব। فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا বাংলা উচ্চারণ: ফাজাআল্না হুন্না আব্কারা। ৩৬. অর্থ: অতঃপর তাদের বানাব কুমারী, عُرُبًا أَتْرَابًا বাংলা উচ্চারণ: উরুবান্ আতরা-বা। ৩৭. অর্থ: সোহাগী ও সমবয়সী। لِأَصْحَابِ الْيَمِينِ বাংলা উচ্চারণ: লিআসহা-বিল্ ইয়ামিন। ৩৮. অর্থ: ডান দিকের লোকদের জন্য। ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ বাংলা উচ্চারণ: ছুল্লাতুম্ মিনাল্ আউয়ালিন। ৩৯. অর্থ: তাদের অনেকে হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে। وَثُلَّةٌ مِنَ الْآخِرِينَ বাংলা উচ্চারণ: ওয়াছুল্লাতুম্ মিনাল্ আ-খিরিন্। ৪০. অর্থ: আর অনেকে হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে। وَأَصْحَابُ الشِّمَالِ مَا أَصْحَابُ الشِّمَالِ বাংলা উচ্চারণ: অআছ্হা-বুশ্ শিমা-লি মা য় আছ্হা-বুশ্ শিমা-ল্। ৪১. অর্থ: আর বাম দিকের দল; কত হতভাগ্য বাম দিকের দল! فِي سَمُومٍ وَحَمِيمٍ বাংলা উচ্চারণ: ফি সামুমিঁও ওয়াহামিম। ৪২. অর্থ: তারা থাকবে তীব্র গরম হাওয়া ও প্রচণ্ড উত্তপ্ত পানিতে, وَظِلٍّ مِنْ يَحْمُومٍ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া জিল্লিম্ মিঁই ইয়াহমুম। ৪৩. অর্থ: আর প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ার ছায়ায়, لَا بَارِدٍ وَلَا كَرِيمٍ বাংলা উচ্চারণ: লা বা-রিদিঁও ওয়া-লা কারিম্। ৪৪. অর্থ: যা শীতলও নয়, সুখকরও নয়। إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُتْرَفِينَ বাংলা উচ্চারণ: ইন্নাহুম্ কা-নু কবলা জা-লিকা মুতরাফিন। ৪৫. অর্থ: নিশ্চয় তারা ইতিপূর্বে বিলাসিতায় মগ্ন ছিল, وَكَانُوا يُصِرُّونَ عَلَى الْحِنْثِ الْعَظِيمِ বাংলা উচ্চারণ: ও কা-নু ইয়ুসিররু-না আলাল্ হিন্ছিল্ আজিম্। ৪৬. অর্থ: আর তারা জঘন্য পাপে লেগে থাকত। وَكَانُوا يَقُولُونَ أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া কা-নু ইয়াকু-লুনা আয়িজা মিতনা ওয়া কুন্না তুরা-বাঁও ওয়া ইজোয়া-মান্ আয়িন্না লামাব্উছুন। ৪৭. অর্থ: আর তারা বলত—‘আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনো কি আমরা পুনরুত্থিত হব?’ أَوَآبَاؤُنَا الْأَوَّلُونَ বাংলা উচ্চারণ: আ ওয়া আ-বা-উনাল্ আউয়ালুন। ৪৮. অর্থ: ‘আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষেরাও?’ قُلْ إِنَّ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ বাংলা উচ্চারণ: কুল্ ইন্নাল্ আউয়ালিনা ওয়াল আ-খিরিন ৪৯. অর্থ: বলুন—‘নিশ্চয় পূর্ববর্তীরা ও পরবর্তীরা, لَمَجْمُوعُونَ إِلَى مِيقَاتِ يَوْمٍ مَعْلُومٍ বাংলা উচ্চারণ: লামাজ্মু উ-না ইলা মিকাতি ইয়াওমিম্ মালুম। ৫০. অর্থ: এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে অবশ্যই একত্র হবে’। ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا الضَّالُّونَ الْمُكَذِّبُونَ বাংলা উচ্চারণ: ছুম্মা ইন্নাকুম্ আইয়ুহাদ্দোয়া-ল্লুনাল্ মুকাজ্জিবুন। ৫১. অর্থ: তারপর হে পথভ্রষ্ট ও অস্বীকারকারীরা, لَآكِلُونَ مِنْ شَجَرٍ مِنْ زَقُّومٍ বাংলা উচ্চারণ: লাআ-কিলুনা মিন্ শাজারিম্ মিন্ জাক্কুম। ৫২. অর্থ: তোমরা অবশ্যই জাক্কুমগাছ থেকে খাবে, فَمَالِئُونَ مِنْهَا الْبُطُونَ বাংলা উচ্চারণ: ফামা-লিউনা মিন্হাল্ বুতুন। ৫৩. অর্থ: অতঃপর তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে। فَشَارِبُونَ عَلَيْهِ مِنَ الْحَمِيمِ বাংলা উচ্চারণ: ফাশা-রিবুনা আলাইহি মিনাল্ হামিম। ৫৪. অর্থ: তদুপরি পান করবে প্রচণ্ড উত্তপ্ত পানি। فَشَارِبُونَ شُرْبَ الْهِيمِ বাংলা উচ্চারণ: ফাশা-রিবুনা শুরবাল হিম। ৫৫. অর্থ: অতঃপর তোমরা তা পান করবে, তৃষ্ণাতুর উটের ন্যায়। هَذَا نُزُلُهُمْ يَوْمَ الدِّينِ বাংলা উচ্চারণ: হা-জা নুজুলুহুম ইয়াওমাদ্দিন। ৫৬. অর্থ: প্রতিফল দিবসে এই হবে তাদের মেহমানদারী। نَحْنُ خَلَقْنَاكُمْ فَلَوْلَا تُصَدِّقُونَ বাংলা উচ্চারণ: নাহনু খালাকনা-কুম্ ফালাওলা তুসাদ্দিকুন। ৫৭. অর্থ: আমিই তোমাদের সৃষ্টি করেছি; তাহলে কেন তোমরা তা বিশ্বাস করছ না? أَفَرَأَيْتُمْ مَا تُمْنُونَ বাংলা উচ্চারণ: আফারাআইতুম্ মা তুমনুন। ৫৮. অর্থ: তোমরা কি ভেবে দেখেছ—তোমাদের বীর্যপাত সম্পর্কে? أَأَنْتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَالِقُونَ বাংলা উচ্চারণ: আআনতুম তাখ্লুকু-নাহু আম্ নাহনুল খা-লিকুন। ৫৯. অর্থ: তা কি তোমরা সৃষ্টি করো, না আমিই তার স্রষ্টা? نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ বাংলা উচ্চারণ: নাহনু কাদ্দারনা বাইনাকুমুল্ মাওতা ওয়ামা নাহনু বিমাসবুকিন। ৬০. অর্থ: আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যু নির্ধারণ করেছি এবং আমাকে অক্ষম করা যাবে না, عَلَى أَنْ نُبَدِّلَ أَمْثَالَكُمْ وَنُنْشِئَكُمْ فِي مَا لَا تَعْلَمُونَ বাংলা উচ্চারণ: আলা আন্নুবাদ্দিলা আম্ছা-লাকুম ওয়া নুন্শিআকুম ফি-মা-লা তালামুন। ৬১. অর্থ: তোমাদের স্থানে তোমাদের বিকল্প আনয়ন করতে এবং তোমাদের এমনভাবে সৃষ্টি করতে; যা তোমরা জানো না। وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ النَّشْأَةَ الْأُولَى فَلَوْلَا تَذَكَّرُونَ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া-লাকাদ আলিম্তুমুন নাশ্আতাল উলা ফালাওলা তাজাক্কারুন। ৬২. অর্থ: আর তোমরা তো প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে জেনেছ, তবে কেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ করছ না? أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَحْرُثُونَ বাংলা উচ্চারণ: আফারাআইতুম্ মা তাহ্ রুছুন। ৬৩. অর্থ: তোমরা আমাকে বলো—তোমরা জমিনে যা বপন করো, সে ব্যাপারে, أَأَنْتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُونَ বাংলা উচ্চারণ: আআনতুম তাজরাউ-নাহু আম নাহনুজ্জারিউন। ৬৪. অর্থ: তোমরা তা অঙ্কুরিত করো, না আমি অঙ্কুরিত করি? لَوْ نَشَاءُ لَجَعَلْنَاهُ حُطَامًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُونَ বাংলা উচ্চারণ: লাও নাশা-উ লাজাআল্না-হু হুতা-মান্ ফাজাল্তুম্ তাফাক্কাহুন। ৬৫. অর্থ: আমি চাইলে তা খড়কুটোয় পরিণত করতে পারি, তখন তোমরা পরিতাপ করতে থাকবে; إِنَّا لَمُغْرَمُونَ বাংলা উচ্চারণ: ইন্না লামুগরামু-ন। ৬৬. অর্থ: (আর বলবে যে,) ‘নিশ্চয়ই আমরা তো দায়গ্রস্ত হয়ে গেলাম’। بَلْ نَحْنُ مَحْرُومُونَ বাংলা উচ্চারণ: বাল্ নাহনু মাহরুমু-ন। ৬৭. অর্থ: ‘বরং আমরা বঞ্চিত হয়ে গেলাম।’ أَفَرَأَيْتُمُ الْمَاءَ الَّذِي تَشْرَبُونَ বাংলা উচ্চারণ: আফারাআইতুমুল্ মা-আল্লাজি তাশরাবু-ন। ৬৮. অর্থ: তোমরা যে পানি পান করো—সে ব্যাপারে আমাকে বলো। أَأَنْتُمْ أَنْزَلْتُمُوهُ مِنَ الْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ الْمُنْزِلُونَ বাংলা উচ্চারণ: আআনতুম আন্জাল্তুমুহু মিনাল মুজ্নি আম নাহনুল মুনজিলু-ন। ৬৯. অর্থ: বৃষ্টিভরা মেঘ থেকে তোমরা কি তা বর্ষণ করো, না আমি বৃষ্টি বর্ষণ করি? لَوْ نَشَاءُ جَعَلْنَاهُ أُجَاجًا فَلَوْلَا تَشْكُرُونَ বাংলা উচ্চারণ: লাও নাশা-উ জাআল্না-হু উজা-জান ফালাওলা তাশ্কুরু-ন। ৭০. অর্থ: ইচ্ছা করলে আমি তা লবণাক্ত করে দিতে পারি; তবু কেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও না? أَفَرَأَيْتُمُ النَّارَ الَّتِي تُورُونَ বাংলা উচ্চারণ: আফারয়াইতুমু ন্না-র ল্লাতী তূরূন্। ৭১. অর্থ: তোমরা যে আগুন জ্বালাও, সে ব্যাপারে আমাকে বলো, أَأَنْتُمْ أَنْشَأْتُمْ شَجَرَتَهَا أَمْ نَحْنُ الْمُنْشِئُونَ বাংলা উচ্চারণ: আ-আনতুম আন্শাতুম শাজারাতাহা আম নাহনুল্ মুন্শিউ-ন। ৭২. অর্থ: তোমরাই কি এর (লাকড়ির গাছ) উৎপাদন করো, না আমি করি? نَحْنُ جَعَلْنَاهَا تَذْكِرَةً وَمَتَاعًا لِلْمُقْوِينَ বাংলা উচ্চারণ: নাহনু জাআল্না-হা তাজকিরাতাঁও ওয়া মাতা-আল্ লিলমুকউই-ন। ৭৩. অর্থ: একে আমি করেছি এক স্মারক ও মরুবাসীর প্রয়োজনীয় বস্তু فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ বাংলা উচ্চারণ: ফাসাব্বিহ্ বিসমি রাব্বিকাল্ আজিম। ৭৪. অর্থ: অতএব তোমার মহান রবের নামে তাসবিহ পাঠ করো। فَلَا أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ বাংলা উচ্চারণ: ফালা উকসিমু বিমাওয়া-কিইন্ নুজু-ম। ৭৫. অর্থ: সুতরাং, আমি শপথ করছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের, وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া ইন্নাহু লাকাসামুল্লাও তালামু-না আজি-ম। ৭৬. অর্থ: আর নিশ্চয় এটি এক মহাকাশপথ, যদি তোমরা জানতে। إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ বাংলা উচ্চারণ: ইন্নাহু লা কুরআ-নুন কারি-ম। ৭৭. অর্থ: নিশ্চয় এটি মহিমান্বিত কোরআন; فِي كِتَابٍ مَكْنُونٍ বাংলা উচ্চারণ: ফি কিতা-বিম্ মাকনুন। ৭৮. অর্থ: যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে, لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ বাংলা উচ্চারণ: লা ইয়ামাস্সুহু ইল্লাল্ মুতাহ্হারু-ন। ৭৯. অর্থ: যারা সম্পূর্ণ পবিত্র; তারা ছাড়া অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না। تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ বাংলা উচ্চারণ: তানজিলুম মির রাব্বিল আ-লামি-ন। ৮০. অর্থ: তা সৃষ্টিকুলের রবের কাছ থেকে নাজিলকৃত। أَفَبِهَذَا الْحَدِيثِ أَنْتُمْ مُدْهِنُونَ বাংলা উচ্চারণ: আফাবিহা-জাল হাদিছি আনতুম মুদ্হিনু-ন। ৮১. অর্থ: তবে কি তোমরা এই বাণী তুচ্ছ গণ্য করছ? وَتَجْعَلُونَ رِزْقَكُمْ أَنَّكُمْ تُكَذِّبُونَ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া তাজ্আলু-না রিজ্কাকুম আন্নাকুম্ তুকাজ্জিবু-ন। ৮২. অর্থ: আর তোমরা তোমাদের রিজিক বানিয়ে নিয়েছ যে—তোমরা মিথ্যা আরোপ করবে। فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ বাংলা উচ্চারণ: ফালাওলা ইজা-বালাগাতিল হুলকুম। ৮৩. অর্থ: সুতরাং, কেন নয়—যখন রুহ কণ্ঠদেশে পৌঁছে যায়, وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া আনতুম হি-নায়িজিন তান্জুরু-ন। ৮৪. অর্থ: আর তখন তোমরা কেবল চেয়ে থাক। وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلٰكِنۡ لَّا تُبْصِرُونَ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া নাহনু আকরাবু ইলাইহি মিন্কুম্ ওয়া-লা-কিল্লা-তুব্সিরু-ন। ৮৫. অর্থ: আর তোমাদের চেয়ে আমি তার খুব কাছে; কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না। فَلَوْلَا إِنْ كُنْتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ বাংলা উচ্চারণ: ফালাওলা ইন্ কুনতুম্ গাইরা মাদি-নি-ন। ৮৬. অর্থ: তোমাদের যদি প্রতিফল দেওয়া না হয়, তাহলে তোমরা কেন تَرْجِعُونَهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ বাংলা উচ্চারণ: তারজিউ-নাহা ইন্ কুনতুম্ সা-দিকি-ন। ৮৭. অর্থ: ফিরিয়ে আনছ না রুহকে? যদি তোমরা সত্যবাদী হও। فَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ বাংলা উচ্চারণ: ফা আম্মা ইন্ কা-না মিনাল্ মুকাররাবি-ন। ৮৮. অর্থ: অতঃপর সে যদি নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্যতম হয়, فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ وَجَنَّةُ نَعِيمٍ বাংলা উচ্চারণ: ফারাওহুঁও ওয়া রাইহা-নুঁও ওয়া জান্নাতুন নায়ি-ম। ৮৯. অর্থ: তবে তার জন্য থাকবে বিশ্রাম, উত্তম জীবনোপকরণ ও সুখময় জান্নাত। وَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া আম্মা ইন্ কা-না মিন্ আসহা-বিল্ ইয়ামি-ন। ৯০. অর্থ: আর সে যদি হয় ডান দিকের একজন, فَسَلَامٌ لَكَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ বাংলা উচ্চারণ: ফাসালা-মুল্ লাকা মিন্ আসহা-বিল ইয়ামি-ন। ৯১. অর্থ: তবে (তাকে বলা হবে), ‘তোমাকে সালাম, যেহেতু তুমি ডান দিকের একজন।’ وَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنَ الْمُكَذِّبِينَ الضَّالِّينَ বাংলা উচ্চারণ: ওয়া আম্মা ইন্ কা-না মিনাল্ মুকাজ্জিবিনাদ্ দা-ল্লি-ন। ৯২. অর্থ: আর সে যদি হয় অস্বীকারকারী ও পথভ্রষ্ট, فَنُزُلٌ مِنْ حَمِيمٍ বাংলা উচ্চারণ: ফা নুজুলুম্ মিন্ হামি-ম। ৯৩. অর্থ: তবে তার আপ্যায়ন হবে প্রচণ্ড উত্তপ্ত পানি দিয়ে, وَتَصْلِيَةُ جَحِيمٍ বাংলা উচ্চারণ: ও তাসলিয়াতু জাহি-ম। ৯৪. অর্থ: আর জ্বলন্ত আগুনে প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে। إِنَّ هَذَا لَهُوَ حَقُّ الْيَقِينِ বাংলা উচ্চারণ: ইন্না হা-জা লাহুওয়া হাক্কুল ইয়াকি-ন। ৯৫. অর্থ: নিশ্চয় এটি অবধারিত সত্য। فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ বাংলা উচ্চারণ: ফাসাব্বিহ্ বিসমি রাব্বিকাল আজিম। ৯৬. অর্থ: অতএব তোমার মহান রবের নামে তসবিহ পাঠ করো।
সূরা আল-ওয়াকিয়ার তাফসির (সংক্ষিপ্ত)
১. কিয়ামতের অবস্থা
“যখন পৃথিবী প্রচণ্ডভাবে কাঁপানো হবে।” — (সূরা ওয়াকিয়া ৪)
এখানে কিয়ামতের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
২. মানুষের তিন শ্রেণি
কুরআনে বলা হয়েছে:
“তোমরা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত হবে।” — (সূরা ওয়াকিয়া ৭)
(১) সাবিকুন – এরা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী বান্দা।
(২) আসহাবুল ইয়ামিন – সৎকর্মশীল মুমিন।
(৩) আসহাবুশ শিমাল – অবিশ্বাসী ও পাপী।
৩. জান্নাতের বর্ণনা
“তারা থাকবে আরামদায়ক সিংহাসনে।” — (সূরা ওয়াকিয়া ১৫)
জান্নাতে থাকবে শান্তি, সুখ ও অনন্ত আনন্দ।
৪. জাহান্নামের বর্ণনা
“তারা থাকবে জ্বলন্ত আগুনে।” — (সূরা ওয়াকিয়া ৪২)
এটি অবিশ্বাসীদের কঠিন পরিণতি।
সূরা আল-ওয়াকিয়ার ফজিলত
একটি বিখ্যাত হাদিসে বলা হয়:
“যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করবে, সে কখনো দারিদ্র্যের সম্মুখীন হবে না।”
‘যে ব্যক্তি সুরা ওয়াকিয়া পাঠ করবে ও শিখবে, সে গাফেলদের কাতারে লিপিবদ্ধ হবে না এবং সে ও তার পরিবার কখনও অভাবগ্রস্ত হবে না।’ [শায়খ আলবানি, সিলসিলা দ্ব‘ঈফাহ: ২৯১; বর্ণনাটি দুর্বল]
‘‘তোমরা তোমাদের নারীদের সুরা ওয়াকিয়া শিক্ষা দাও। কেননা, এটি ধনাঢ্যতার সুরা।’’ [শায়খ আলবানি, দ্ব‘ঈফুল জামি’: ৩৭৩০; বর্ণনাটি দুর্বল]
উত্তরাধিকার হিসেবে শ্রেষ্ঠ সম্পদ: বর্ণিত আছে যে, ইবনে মাসউদ (রা.)-কে যখন তাঁর সন্তানদের জন্য সম্পদ রেখে না যাওয়ার কথা বলা হলো, তিনি বলেছিলেন, ‘তাদের জন্য আমি সুরা ওয়াকিয়া রেখে গেলাম।’
রিজিকে বরকত: ইসলামবিষয়ক গবেষকগণ রিজিকে বরকতের জন্য মাগরিব বা এশার নামাজের পর এই সুরা পাঠের বিশেষ তাগিদ দিয়ে থাকেন।
সূরা আল-ওয়াকিয়ার উপকারিতা
এই সূরার পাঠ মানুষের ঈমানকে শক্তিশালী করে।
- ১. আখিরাতের স্মরণ
- ২. দুনিয়ার মোহ কমানো
- ৩. আল্লাহর প্রতি ঈমান বৃদ্ধি
- ৪. আত্মিক শান্তি
ফিকহ বিশ্লেষণ
- ১. কিয়ামতের প্রতি ঈমান – ইসলামের মৌলিক আকিদার একটি অংশ।
- ২. নেক আমলের গুরুত্ব- মানুষের পরিণতি নির্ভর করে তার আমলের উপর।
- ৩. দুনিয়ার সম্পদের অস্থায়িত্ব – এই সূরা দুনিয়ার জীবনের অস্থায়িত্ব স্মরণ করায়।
বাস্তব জীবনে সূরার প্রয়োগ
এই সূরার শিক্ষা বাস্তব জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ১. নৈতিক জীবন – মানুষকে সৎ জীবনযাপন করতে হবে।
- ২. আখিরাতের প্রস্তুতি – দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের প্রস্তুতি হিসেবে গ্রহণ করা।
- ৩. আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা – খাদ্য, পানি ও জীবনের জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া।
সূরা আল-ওয়াকিয়া থেকে শিক্ষনীয় বিষয়
এই সূরা আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।
- ১. কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী
- ২. মানুষ তার আমলের ফল পাবে
- ৩. আল্লাহর ক্ষমতা সীমাহীন
- ৪. দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী
কখন সূরা আল-ওয়াকিয়া পড়া উচিত
এই সূরা যেকোনো সময় পড়া যায়। তবে অনেক মুসলিম সাধারণত পড়েন:
- রাতে
- তাহাজ্জুদের সময়
- কুরআন তিলাওয়াতের সময়
কিভাবে পড়া উচিত
সঠিকভাবে তিলাওয়াত করার জন্য কয়েকটি নিয়ম:
- ১. ওযু করে পড়া
- ২. তাজবীদ মেনে পড়া
- ৩. অর্থ বুঝে পড়া
- ৪. মনোযোগ সহকারে পড়া
সূরা আল-ওয়াকিয়া সম্পর্কে সাধারণ ভুল ধারণা
ভুল ধারণা ১: এই সূরা পড়লে অবশ্যই ধনী হওয়া যায়।
বাস্তবতা: এ বিষয়ে সহিহ হাদিস নেই।
ভুল ধারণা ২: নির্দিষ্ট সংখ্যক বার পড়লে অর্থ আসে।
বাস্তবতা: এটি ইসলামের প্রমাণিত আমল নয়।
শিশুদের সূরা ওয়াকিয়া শেখানোর পদ্ধতি
- ১. ছোট অংশ করে শেখানো
- ২. অর্থ ব্যাখ্যা করা
- ৩. কিয়ামতের গল্পের মাধ্যমে বোঝানো
- ৪. নিয়মিত তিলাওয়াত
সূরা ওয়াকিয়া সম্পর্কিত দোয়া
اللهم اجعلنا من أصحاب اليمين
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদেরকে ডানদিকের লোকদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
FAQ
প্রশ্ন ১: সূরা ওয়াকিয়া কত নম্বর সূরা?
৫৬ নম্বর।
প্রশ্ন ২: আয়াত কতটি?
৯৬টি।
প্রশ্ন ৩: সূরাটির মূল বিষয় কি?
কিয়ামত ও আখিরাত।
প্রশ্ন ৪: এটি কি রাতে পড়া উচিত?
অনেকে রাতে পড়েন, তবে যেকোনো সময় পড়া যায়।
প্রশ্ন ৫: এই সূরা কী শিক্ষা দেয়?
আখিরাতের প্রস্তুতি।
সূরা আল-ওয়াকিয়া মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা—কিয়ামত ও আখিরাত—স্মরণ করিয়ে দেয়। এই সূরাটি মানুষকে শিক্ষা দেয়:
- দুনিয়ার জীবন সাময়িক
- আখিরাত চিরস্থায়ী
- নেক আমলই সফলতার পথ
যদি একজন মুসলিম নিয়মিত এই সূরা তিলাওয়াত করে এবং এর শিক্ষা জীবনে প্রয়োগ করে, তবে সে আখিরাতের জন্য ভালো প্রস্তুতি নিতে পারবে।