সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন শুক্রবারে জোহরের পরিবর্তে জামাতের সাথে আদায়কৃত ২ রাকাত ফরজ নামাজ, যা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য অবশ্যই পালনীয়। খুতবার পর ইমামের পেছনে এটি আদায় করা হয় এবং এর আগে ৪ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা ও পরে ৪ রাকাত বা ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজ পড়া হয়। এটি মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত একটি পবিত্র ইবাদত।

জুম্মার নামাজের মূল বিষয়সমূহ:

  • ফরজ অংশ: জুম্মার মূল ফরজ নামাজ ২ রাকাত।
  • সময় ও নিয়ম: খুতবা শোনা ফরজ। খুতবার পর ইমামের পেছনে জামাতে নামাজ আদায় করতে হয়।
  • রাকাত সংখ্যা:
    • ৪ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা (জুম্মার ফরজের পূর্বে)।
    • ২ রাকাত ফরজ (জুম্মার প্রধান নামাজ)।
    • ৪ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা (জুম্মার ফরজের পরে)।
  • গুরুত্ব: পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, জুম্মার আযান হলে আল্লাহর স্মরণের (নামাজের) দিকে দ্রুত ধাবিত হও এবং কেনা-বেচা (ব্যবসা) বন্ধ কর।

জরুরি বিধান:

  • জুম্মার নামাজে ইমামের সাথে যদি প্রথম বা দ্বিতীয় রাকাতের রুকু পর্যন্ত শরিক হতে না পারেন, তবে জুম্মার নামাজ হবে না, তখন ৪ রাকাত জোহরের নামাজ পড়তে হবে।
  • শহরের বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মসজিদে জুম্মা পড়া নিয়ম। তবে অসুস্থ বা বিশেষ প্রয়োজনে ইমামসহ অন্তত ৪ জন থাকলে বাড়িতেও তা আদায় করা যায়। 

 জুমার চার রাকাত কাবলাল জুমার নিয়ত:

বাংলা উচ্চারণ:

নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা আরবায়া রাকাআতি ছালাতি কাব্‌লাল জুমুয়াতি, সুন্নাতি রাসূলিল্লাহি তয়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল্‌ ক্বাবাতিশ্‌ শারীফাতি আল্লাহু আক্‌বার।

অর্থ: আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর ওয়াস্তে চার রাকায়াত কাবলাল জুমার সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজের নিয়ত করলাম। আল্লাহু আকবর।

জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ত:

বাংলা উচ্চারণ:

নাওয়াইতু আন্‌ উসকিতা আন্‌ জিম্মাতী ফারদুজ্জহ্‌রি, বি-আদায়ি রাকয়াতাই ছালাতিল্‌ জুমুয়াতি, ফারজুল্লাহি তায়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল্‌ ক্বাবাতিশ্‌ শারীফাতি আল্লাহু আক্‌বার।

অর্থ: আমার উপর জুহরের ফরজ নামাজ আদায়ের যে দায়িত্ব রয়েছে, আমি কেবলামুখী হয়ে, জুম্মার দুই রাকায়াত ফরজ নামাজ আদায়ের মাধ্যমে তা পালনের নিয়ত করলাম। আল্লাহু আকবর।

 চার রাকাত বাদাল জুমার নিয়ত:

বাংলা উচ্চারণ:

নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা আরবায়া রাকাআতি ছালাতি বাদাল জুমুয়াতি, সুন্নাতি রাসূলিল্লাহি তয়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল্‌ ক্বাবাতিশ্‌ শারীফাতি আল্লাহু আক্‌বার।

অর্থ: আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর ওয়াস্তে চার রাকায়াত বাদাল জুম্মা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নামাজের নিয়ত করলাম। আল্লাহু আকবর।

 জুমার নামাজ যাদের উপর ফরজ ও যাদের উপর নয়:

বালেগের উপর জুমার নামাজ পড়া ফরজ। না-বালেগের উপর বাকি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যেমন ফরয নয়, তেমনি জুমার নামাজও ফরজ নয়। পুরুষের উপর জুমার নামাজ ফরজ।

যে ব্যক্তি মুকিম তার উপর জুম্মার নামাজ ফরজ নয়। যে ব্যক্তি কারো ক্রীতদাস নয়, তার উপর জুমার নামাজ পড়া ফরজ। পরের খরীদা-গোলাম এর উপর জুম্মা ফরজ নয়। যে সমস্ত ওজরের কারণে জামায়াতে উপস্থিত না হওয়ার অনুমতি রয়েছে, সে সমস্ত ওজরের কোনটি যার নাই, তার উপর জুম্মার নামাজ ফরজ।

যদি জুমার নামাজের সকল শর্ত পাওয়া যায় তাহলে খোলা মাঠেও জুমার নামাজ পড়া জায়েজ আছে। জুমার শর্তসমূহ-
১. শহর বা উপশহর হতে হবে। গ্রামে বা জনমানবহীন বিয়াবানে জুমআর নামায শুদ্ধ হবে না।
২. জামাআত হতে হবে। ইমাম ছাড়া কমপক্ষে তিনজন মুসল্লী হতে হবে। অর্থাৎ মোট চারজন ছাড়া জুমআর নামায আদায় করা যাবে না।
৩. যোহরের সময় হতে হবে।
৪. সকলের জন্য আম অনুমতি থাকতে হবে।
৫. খুতবা দিতে হবে।

গ্রাম বলতে এমন এলাকাকে বুঝায়, যেখানে রাষ্ট্রীয় কোন প্রতিনিধি, মানুষের নিত্তপ্রয়োজনীয় আসবাব সহজলভ্য নয়। এমন সুবিধাবঞ্চিত এলাকাকে মূলত গ্রাম বলা হয়।