১. খাওয়া দাওয়ার উপর অধিক মনোযোগ
রমজানে দেখা যায় মানুষ রোজার থেকে খাওয়া দাওয়া নিয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে যায়। যদিও একজন মানুষের জন্য এত অধিক খাবারের প্রয়োজন নেই তারপরও ইফতার আয়োজনে অযথা টাকা খরচ করে।
২. ফজরের অনেক আগেই সেহরি খাওয়া
তারাবি কিংবা এশার নামাজের কয়েক ঘন্টা পরই সেহরি খাওয়া ঠিক নয়। ফজরের কাছাকাছি সময়ে সেহরি খাওয়া উচিত।
৩. নিয়াত না করা
আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা রমজানে রোজা রাখার সময় রোজা সম্পর্কে কোন প্রকার নিয়ত করা ছাড়াই অর্থাৎ রোজার পালন সম্পর্কে কোন প্রকার লক্ষ্য নির্ধারণ ছাড়াই রোজা পালন করেন। তারা রোজার যথাযথ গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন না হয়েই একটি সামাজিক প্রথা হিসেবেই রোজা পালন করেন। রোজা থেকে যদি কেউ প্রকৃতই কল্যাণ অর্জন করতে চায়, তবে রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে রোজার নিয়ত করে রোজা রাখা উচিত।
৪. রোজার সূচনা সম্পর্কে অজ্ঞতা
আমাদের অনেকেই হয়তো এমন স্থানে বসবাস করতে পারে, যেখানে রোজা শুরু হওয়ার সঠিক সময় সম্পর্কে জানা তাদের জন্য সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে অনেক সময় রোজা শুরু হওয়ার পর তারা জানতে পারেন রোজা শুরু হওয়ার কথা। এতে তারা চিন্তিত হয়ে পরে পূর্ববর্তী রোজা সমূহ কিভাবে পূরণ করবেন। ফলে তারা অনেকসময় ঠিকমত রোজা পালন করতে পারেন না। যখনই তারা রমজান শুরু হওয়ার কথা জানতে পারবেন, তখনই যেন তারা রোজা রাখা শুরু করেন। তাদের বাকী থাকা রোজাসমূহ তারা রমজানের শেষে ঈদের পর পূরণ করতে পারেন।
৫. তারাবীর নামাজ
অনেকেই চিন্তা করেন, রমজানের বিশেষ তারাবীহ’র নামাজ রমজানের প্রথম রোজার দিন আদায় করতে হয়। কিন্তু তারা ভুলে যান, চাঁদের হিসাব অনুসারে হিজরী ক্যালেন্ডার গণনা করার কারণে হিজরী ক্যালেন্ডারের দিনসমূহ সূর্যাস্তের পর থেকে শুরু হয়। সুতরাং, রমজানের চাঁদ উদয়ের পরপরই ঐ রাত্রে এশার নামাজ আদায়ের পর পরদিন রোজা পালনের জন্য তারাবীহ’র নামাজ আদায় করতে হবে।
৬. ভুলক্রমে পানাহার
অনেকেই মনে করেন, কেউ যদি ভুলক্রমে কিছু খেয়ে ফেলে বা পান করে ফেলে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। প্রকৃতপক্ষে এটি অমূলক একটি ধারণা। আপনি রোজা রাখা অবস্থায় ভুলে কিছু খেয়ে ফেলেন, তবে আপনার রোজা ভঙ্গও হবেনা বা আপনাকে পরবর্তীতে তা পূরণও করতে হবেনা।
৭. মিসওয়াক বা টুথব্রাশ ব্যবহার
অনেকেই ধারণা করেন, রমজানে রোজা রাখা অবস্থায় দাঁত পরিস্কার করার জন্য মিসওয়াক বা টুথব্রাশ ব্যবহার করা যাবেনা। এটিও একটি ভুল ধারণা। রাসূল (সা.) এর হাদীস থেকেই প্রমাণিত আছে যে, তিনি রমজানে রোজা রাখা অবস্থায় মিসওয়াক করতেন। এরূপ আপনি টুথব্রাশও ব্যবহার করতে পারেন। টুথপেস্টের বিশেষ ফ্লেভার থাকায় বিশেষজ্ঞগণ রোজা রাখা অবস্থায় টুথপেস্ট ব্যবহার করতে অনুৎসাহিত করেন। তবে আপনি যদি সতর্ক থাকতে পারেন (টুথপেস্ট গিলে ফেলা থেকে), তবে আপনি তা ব্যবহার করতে পারেন।
৮. একত্রে যোহর-আসর আদায়
অনেকেই রয়েছেন রমজানে যোহর এবং আসর নামাজ একত্রে একই সময়ে আদায় করেন। এরূপ অনুশীলনের কোন প্রমাণ নেই এবং এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কাজ। রমজানে যোহর-আসর একত্রে আদায়ের এ ধরণের অনুশীলন সম্পূর্ণরূপে পরিহার করাই উত্তম।
৯. ইফতার গ্রহণ
কেউ কেউ মনে করেন, মুয়াজ্জিন মাগরিবের আজান না দেওয়া পর্যন্ত ইফতার গ্রহণ করা যাবেনা। এটিও একটি ভুল ধারণা। ইফতারের সময় হওয়ার সাথে সাথে একজন ব্যক্তি ইফতার গ্রহণ করে তার রোজা ভঙ্গ করতে পারে।
১০. দোয়া করা
অনেকেই ইফতার পূর্ববর্তী সময়ে তাসবীহ-তাহলীল ও আল্লাহর কাছে দোয়া না করে অযথা সময়কে নষ্ট করেন। ইফতারের আগমুহূর্ত এমন একটি সময় যখন আল্লাহ ইফতার সামগ্রী সামনে নিয়ে বসে থাকা তার বান্দাদের দোয়া কবুল করেন। সুতরাং, অনর্থক সময় নষ্ট না করে এসময়টি আমাদের তাসবীহ-তাহলীল এবং দোয়া-মুনাজাতে ব্যয় করা উচিত।
১১. রমজানের শেষ দিনসমূহ পালন
রমজানের শেষের দিকে এসে অনেকেই রমজানের কথা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে ঈদের প্রস্তুতিতে সময়কে অধিক ব্যয় করেন। আমাদের সকলেরই এটি একটি সাধারণ ত্রুটি এবং রমজানের মূল শিক্ষা সম্পর্কে অসচেতনতা থেকেই আমরা এই ধরনের অভ্যাসে লিপ্ত হই। সুতরাং, রমজানের শেষমুহূর্তে এসেও আমাদের রমজানের বিভিন্ন ইবাদত পালন করার প্রতি উদাসিন না হয়ে রমজানের সূচনা মুহূর্তের উদ্দীপনা সহকারেই ইবাদত সমূহ পালন করা উচিত।
১২. আচার-ব্যবহার
অনেকেরই ধারণা, রমজানের রোজার লক্ষ্য শুধু পানাহার থেকে বিরত থেকে ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করানো। প্রকৃতপক্ষে আমাদের আচরণ পরিবর্তনের জন্যও একটি উত্তম সময় রমজান। আমাদের অসৎ কাজ ও ত্রুটি থেকে মুক্ত করে আমাদের সৎ মানুষে পরিণত করার লক্ষ্যেও রমজান আমাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে।
১৩. সময় নষ্ট করা
রমজানে অনেকেই প্রায়শই বিভিন্নভাবে সময়কে নষ্ট করে। অনর্থক কাজে লিপ্ত থেকে বা সম্পূর্ণ ঘুমিয়ে থেকে তারা রমজানে বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বড় বড় সুযোগসমূহ নষ্ট করে। সুতরাং, অনর্থক সময় নষ্ট না করে আমাদের উচিত, বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য সচেষ্ট হওয়া।
১৪. ভ্রমণকালীন রোজা
অনেকেই চিন্তা করেন, ভ্রমণরত অবস্থায় রোজা রাখার প্রয়োজন নেই। এই ধারণাটি আংশিকভাবে সত্য। কেউ যদি ভ্রমণের কারনে দুর্বল হয়ে যান, তবে তার রোজা ভেঙ্গে ফেলার অনুমতি রয়েছে। তবে তাকে এই রোজা পরবর্তীতে পূরণ করতে হবে। এছাড়া, কারো যদি ভ্রমণরত অবস্থায় রোজা রাখার শারীরিক সামর্থ্য থাকে, তবে সে রোজা রাখতে পারবে।
১৫. থুথু গিলে ফেলা
অনেকেই মনে করেন, রোজা রাখা অবস্থায় মুখের থুথু কেউ গিলে ফেলতে পারেনা। এটিও একটি ভুল ধারণা। তবে মুখে থুথু জমে গেলে বা মুখে কফে আসলে তা ফেলে দেওয়াই উত্তম।
১৬. সুগন্ধী ব্যবহার
কেউ কেউ বলেন, রমজানে রোজা অবস্থায় সুগন্ধী বা তেল ব্যবহার করা যায়না। এটিও সম্পূর্ণরূপে ভুল ধারণা।
১৭. ওযু করা
ওযুর সময়ে মুখের বা নাকের ভেতর পানি দেওয়াকে কেউ কেউ রোজার ভঙ্গ হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এটিও ভুল ধারণা। আল্লাহ আমাদের রমজানের রোজা পালনের ত্রুটি সমূহ থেকে রক্ষা করে আমাদের রোজাসমূহকে কবুল করুন।
১৮. দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভেঙ্গে যায়
অনেক মানুষ মনে করেন পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভেঙ্গে যায়। কিন্তু ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভাঙ্গে না। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অল্প পরিমাণ পেস্ট নিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন। এছাড়া মিন্টের গন্ধ কম এরকম পেস্ট ব্যবহার করুন। বেশি চিন্তা হলে গাছের সরু ডাল থেকে তৈরি মিসওয়াক বা দাঁতন ব্যবহারের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
১৯. মুখের লালা পেটে ঢুকলে রোজা থাকে না
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখের লালা পেটে ঢুকলে রোজা থাকে না- এই বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই। তাদের মতে, নিজের লালা গলাধঃকরণ করা খুব স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রক্রিয়া, এতে অবশ্যই রোজা ভাঙ্গে না।
২০. শুধু খাবার অথবা পানি না খেলেই রোজা কবুল হয়ে যাবে
শুধুমাত্র খাবার মুখে দিলে বা পানি পান করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে তাই নয়। আরো কিছু আচরণে রোজা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আপনি যদি দুর্নাম রটান, গুজবে অংশ নেন বা কাউকে গালিগালাজ করেন, তাহলে রোজা কবুল নাও হতে পারে।
২১. অসাবধানতা বশত কিছু খেয়ে ফেললে রোজা ভেঙ্গে যায়
ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি যদি সত্যিই একদম ভুলে কিছু খেয়ে ফেলেন, তাহলেও আপনার রোজা বৈধ থাকবে, যদি না আপনি বোঝার সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু নামাজের আগে ওজুর সময় যদি আপনি অনিচ্ছাকৃত-ভাবে পানি খেয়ে ফেলেন তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। কারণ এই ভুল এড়ানো সম্ভব। এ কারণে রোজা রেখে অজু করার সময় গারগল না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। অজুর সময় আপনি শুধু কুলি করাই শ্রেয়।
২২. ওষুধের ব্যবহার
মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন (এমসিবি) আন্তর্জাতিক গ্লুকোমা সমিতির সাথে যৌথ একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে- রোজা রেখেও কিছু ওষুধ ব্যবহার করা যাবে। যেমন, চোখের ড্রপ। এমসিবি বলেছে, চোখের ড্রপ, কানের ড্রপ বা ইনজেকশনে রোজা ভাঙবে না। তবে যেসব ওষুধ মুখে দিয়ে খেতে হয়, সেগুলো নিষিদ্ধ । সেহেরির আগে ও ইফতারির পর তা খেতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনি যদি অসুস্থ থাকেন, তাহলে ভাবতে হবে আপনি রোজা আদৌ রাখবেন কিনা? কোরআনে পরিস্কার বলা আছে, আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ মত চলুন।
২৩. যেকোনো পরিস্থিতিতেই রোজা রাখতে হবে
ইসলামে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক (সাধারণত ১৫ বছর) এবং সুস্থ ব্যক্তির রোজা ফরজ বা আবশ্যিক করা হয়েছে। এমসিবি বলছে – শিশু, অসুস্থ (শারীরিক এবং মানসিক), দুর্বল, ভ্রমণকারী, অন্তঃসত্ত্বা বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন নারীর জন্য রোজা আবশ্যিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি স্বল্প সময়ের জন্য কেউ অসুস্থ হন, তাহলে সুস্থ হওয়ার পর অন্য সময়ে তিনি ভাঙ্গা রোজাগুলো পূরণ করে দিতে পারেন।
২৪. রোজা রাখা অথচ খারাপ কাজ বর্জন না করা
আমাদের কিছু সংখ্যক রোজা রাখে কিন্তু তারা মিথ্যাচার, অভিশাপপ্রদান, মারামারি, গীবত ইত্যাদি বর্জন করে না এবং কিছুসংখ্যক রোজা রাখার উদ্দেশ্য কেবলমাত্র পানাহার থেকে বিরত নয় বরং আল্লাহর প্রতি তাকওয়া(পরহেজগারী) অর্জন অনুধাবন না করে রোজা রাখে কিন্তু তারা প্রতারণা, চুরি, হারাম চুক্তি সম্পাদন, লটারির টিকেট ক্রয়, মদ বিক্রি, যিনা ইত্যাদিসহ যাবতীয় অননুমোদিত কর্মকান্ড বর্জন করে না।
“হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো! তোমাদের ওপর সাওম ফরজ করা হয়েছে যেমনটি করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্বপুরূষদের ওপর যাতে করে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” [সূরা বাকারাঃ১৮৩]
রাসূল (সা:) বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা ও এর ওপর আমল করা বর্জন করে না ও মূর্খতা পরিহার করে না, তার পানাহার হতে বিরত থেকে উপবাস করা আল্লাহর নিকট প্রয়োজন নেই।” [বুখারী]
২৫. ধূমপান
ধূমপান ইসলামে বর্জনীয় সেটা রামাদান মাসেই হোক বা এর বাইরে হোক, কারণ এটা “আল-খাবিছ্’(খারাপ কাজ) এর একটি। এবং এটা যাবতীয় ধূমপানের সামগ্রী অন্তভূর্ক্ত করে যেমনঃ সিগার, সিগারেট, পাইপ, শিশা, হুক্কা ইত্যাদি।
“তাদের জন্য যাবতীয় পাক জিনিসকে হালাল ও নাপাক জিনিসসমূহকে তাদের ওপর হারাম ঘোষণা করে” [সূরাআ’রাফঃ১৫৭]
এটা শুধু যে ধূমপায়ী তার জন্য ক্ষতিকর- তা নয়, বরং তার আশেপাশে যারা রয়েছে তাদের জন্যও ক্ষতিকর। এটা কারো অর্থ অপচয়ের জন্য একটি মাধ্যমও বটে। রাসূল (সা:) বলেছেনঃ
“কোনো ধরনের ক্ষতিসাধন করা যাবে না কিংবা ক্ষতিসাধন বিনিময়ও করা যাবে না।”
এই হাদীস বিশেষত রামাদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এটা সাওমকে বাতিল করে দেয়। [ফতওয়া-ইবনে উছাইমিন]
২৬. ইচ্ছাকৃতভাবে সেহরী বাদ দেওয়া
রাসূল (সা:) বলেছেনঃ “সেহরী খাও, কারণ এটার মধ্যে বরকত রয়েছে।” [বুখারী, মুসলিম]
এবং তিনি (সাঃ) বলেছেনঃ “আমাদের সাওম আর আহলে কিতাবদের সাওম পালনের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হচ্ছে সেহরী গ্রহণ।” [মুসলিম]
২৭. রোযা ভাঙতে দেরি করা
আমাদের অনেকেই ইফতারের সময় মাগরিবের আযান শেষ হওয়া পর্যন্ত বসে থাকেন, আযান শেষ হলে রোযা ভাঙেন। সূর্য অস্ত যাবার পর আযান দেওয়ার সাথে সাথে রোযা ভাঙা সুন্নাহ সম্মত। আনাস(রাঃ) বলেন,“রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটাই করতেন। [মুসলিম]
২৮. ইফতার বেশি খেতে গিয়ে মাগরিবের নামায জামাআত ধরতে না পারা
আমরা অনেকেই ইফতারিতে এত বেশি খাবার নিয়ে বসি যে সেগুলো শেষ করতে গিয়ে মাগরিবের জামাআত ধরতে পারিনা। এটা একেবারেই অনুচিত। রাসুল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কয়েক টুকরা খেজুর মুখে দিয়ে ইফতার ভেঙে অতঃপর মাগরিবের নামাজ এর জন্য চলে যেতেন। নামাজ শেষ করে এসে আমরা ফিরে এসে ইচ্ছা করলে আরও কিছু খেতে পারি।
২৯. আমাদের দুআ কবুল হওয়ার সুযোগ ছেড়ে দেওয়া
সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির দুআ রোযা ভাঙার সময় আল্লাহর নিকট কবুল হয়ে থাকে। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “তিন ধরনের ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয়না- ১)একজন পিতার দুয়া, ২)রোযাদার ব্যক্তির দুয়া, ৩)মুসাফিরের নামাজ”। [বায়হাকি]
আমরা এই সময়ে দুআ না করে বরং খাবার পরিবেশন,কথাবার্তা ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আমাদের চিন্তা করা উচিৎ কোনটা আমাদের দরকার- খাবার নাকি দুআ কবুল হওয়া ?
৩০. রোযা রাখা অথচ নামাজ না পরা
সিয়াম পালনকারী কোন ব্যক্তি নামাজ না পরলে তার সিয়াম কবুল হয়না। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেছেন: “সালাত(নামাজ) হচ্ছে ঈমান এবং কুফর এর পার্থক্যকারী”। [মুসলিম]
আসলে শুধু সিয়াম নয়,সালাত(নামাজ) না পরলে কোন ইবাদতই কবুল হয়না।রাসুল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেন: “যে আসরের সালাত পরেনা, তার ভাল কাজসমূহ বাতিল হয়ে যায়।” [বুখারি]
৩১. পরীক্ষা কিংবা কর্মব্যস্ততার জন্য রোযা না রাখা
পরীক্ষা কিংবা কর্মব্যস্ততার কারণে রোযা না রাখা শরীয়ত সম্মত নয়। সকালে পড়ালেখা করতে কষ্ট হলে রাতে করার সময় থাকে। আমাদের মনে রাখা উচিৎ যে পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করার চেয়ে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।পড়ালেখা করার মধ্যে দিয়েও যদি আমরা সঠিকভাবে যদি আমরা রোযা রাখার মত ফরয কাজগুলো করার চেষ্টা করি, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আমাদের জন্য তা সহজ করে দিবেন এবং আমাদের সাহায্য করবেন।
“আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন।এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।” [আত-তালাকঃ ২-৩]
৩২. স্বাস্থ্য কমানোর উদ্দ্যেশ্যে রোযা রাখা
স্বাস্থ্য কমানোর জন্য রোযা রাখা উচিত নয়। এটি অন্যতম একটি বড় ভুল যা আমরা করে থাকি। সিয়াম পালন করার একমাত্র উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। যদি স্বাস্থ্য কমানোর উদ্দ্যেশ্যে কেউ রোযা রাখে তাহলে তা শিরকের (ছোট শিরক বা শিরকুল আসগার) আকার ধারন করতে পারে।
৩৩. তারাবীর নামাযের রাকাআত সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ
তারাবীর নামাযের কোন নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাআত নেই। আট এবং বিশ রাকাআত-এ দুটোই শরীয়ত সম্মত। শেখ ইবনে উথাইমিন বলেন,“এগারো কিংবা তেইশ রাকাআতের কোনটিকে নির্দিষ্ট করে অপরটি বাতিল করা অনুচিত।কারন বিষয়টি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ,সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।”
৩৪. নির্দিষ্টভাবে শুধু ২৭ রমযানের রাতকে লাইলাতুল ক্বাদর মনে করে ইবাদত করা
আমরা অনেকেই কেবল ২৭ রমযান রাতে লাইলাতুল ক্বাদর পাওয়ার জন্য ইবাদত করে থাকি,কিন্তু অন্যান্য বিজোড় রাতগুলিকে প্রাধান্য দেইনা। অথচ রাসুল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেছেন,
“রমযানের শেষ দশ রাত্রির বিজোড় রাতগুলিতে লাইলাতুল ক্বাদর তালাশ কর।”(বুখারি ও মুসলিম)
৩৫. ঈদের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে রমযানের শেষাংশ অবহেলায় পালন করা
আমরা অনেকেই ঈদের প্রস্তুতি (নতুন কাপড় কেনা,খাবারের আয়োজন করা,মার্কেটে ঘোরাঘুরি করা) নিতে গিয়ে রমযানের শেষ দশ দিন অবহেলায় পালন করি (ঠিকমত ঈবাদত না করা এবং লাইলাতুল ক্বাদরের তালাশ না করা)। রাসুল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমযানের শেষ দশ দিন আল্লাহর ইবাদতে খুব বেশি সময় নিমগ্ন থাকতেন, কেনাকাটি করায় ব্যস্ত থাকতেন না। রমযান শুরু হবার আগেই আমাদের কেনাকাটি শেষ করা উচিৎ। আয়শা (রা:)হতে বর্ণিত:
“যখন রমযানের শেষ দশক শুরু হত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লুঙ্গি শক্ত করে বাঁধতেন (অর্থাৎ ইবাদতে ব্যস্ত থাকতেন, স্ত্রীদের সাথে অন্তরঙ্গ হওয়া থেকে বিরত থাকতেন), রাত্রি জাগরণ করতেন এবং তাঁর পরিবারকে জাগিয়ে তুলতেন।” [বুখারী,মুসলিম]
৩৬. রোজা সম্পর্কিত অন্যান্য ভুলগুলো হচ্ছে-
১. রমজানের চাঁদ না দেখা।
২. রোজার জন্য শুধু খাবার মজুদ করা।
৩. বাচ্চাদের রোজা রাখতে না দেয়া।
৪. মুখের নিয়তকে জরুরি মনে করা।
৫. রোজা রেখেও পাপ কাজ করা।
৬. মিসওয়াক করাকে দোষের মনে করা।
৭. সাহরি বেশি দ্রুত বা বেশি দেরি করে করে খাওয়া।
৮. গোসল ফরজ হলে সাহরি খাওয়াকে দোষের মনে করা।
৯. সাহরি না খেলে রোজা হয় না মনে করা।
১০. সাহরিতে খেজুর না খাওয়া।
১১. সাহরিতে দোয়া না করা।
১২. থুথু গিললে রোজা ভেঙে গেছে মনে করা।
১৩. ফজর পড়ে ঘুমানো।
১৪. মাগরিবের আজানের জবাব না দেয়া।
১৫. তারাবীর নামাজে তাড়াহুড়ো ও চার রাকাত পর পর দোয়াকে জরুরি মনে করা।
১৬. রোজা রেখে সময় অপচয় করা।
১৭. ইফতারদাতার জন্য দোয়া না করা।
১৮. ইতেকাফ না করা।
১৯. রোজার শেষ দিন কেনাকাটায় বেশি ব্যস্ত হওয়া।
২০. ফিতরা সময়মতো আদায় না করা।
সংগৃহীত