রমজান মাস ইসলামের দৃষ্টিতে এক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ মাস। একে “শাহরুল কুরআন” বলা হয়অর্থাৎ কুরআনের মাস। এর মূল ভিত্তি কুরআনের ঘোষণায় প্রতিষ্ঠিত।

আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন:

“রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে—মানবজাতির জন্য হিদায়াতস্বরূপ, সুস্পষ্ট প্রমাণ ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।”
— আল-কুরআন, সূরা আল-বাকারা ২:১৮৫

এই আয়াত থেকেই বোঝা যায়—রমজানের সর্বোচ্চ মর্যাদার কারণ হলো এই মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে।

১. কুরআনের নাযিলের সূচনা

রমজানের এক মহিমান্বিত রাতে, লাইলাতুল কদরে, কুরআন নাযিল শুরু হয়। আল্লাহ বলেন:

“নিশ্চয়ই আমি একে কদরের রাতে নাযিল করেছি।” — আল-কুরআন, সূরা আল-কদর ৯৭:১

“নিশ্চয়ই আমি একে এক বরকতময় রাতে নাযিল করেছি।” — আল-কুরআন, সূরা আদ-দুখান ৪৪:৩

অতএব, রমজান হলো—ওহীর সূচনার মাস, হিদায়াতের মাস।

রমজানের লাইলাতুল কদরে কুরআনের অবতরণ শুরু হয়। এই রাত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:

লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।” আল-কুরআন (৯৭:৩)

অতএব, রমজানের শ্রেষ্ঠত্ব কুরআনের কারণে।

২. রাসূল ﷺ ও কুরআনের বিশেষ সম্পর্ক রমজানে

হাদীসে এসেছে—

“জিবরীল (আ.) রমজানের প্রতি রাতে নবী ﷺ–এর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁর সাথে কুরআন পর্যালোচনা করতেন।” — সহিহ বুখারি

এটি প্রমাণ করে—রমজান হলো কুরআন তিলাওয়াত, অধ্যয়ন ও অনুশীলনের মাস।

রমজান শুধু রোজার মাস নয়; এটি কুরআনের সাথে সম্পর্ক নবায়নের মাস।

৩. কুরআন হলো হিদায়াতের উৎস

📖 আল্লাহ বলেন:

“এই কুরআন সেই পথের দিশা দেয় যা সর্বাধিক সরল।” — আল-কুরআন, সূরা আল-ইসরা ১৭:৯

রমজানে যখন হৃদয় নরম হয়, শয়তান বন্দী থাকে, তখন কুরআনের প্রভাব গভীর হয়।

৪. আমলের মাস

রাসূল ﷺ রমজানে কুরআন তিলাওয়াত বৃদ্ধি করতেন। সাহাবায়ে কিরাম (রা.) রমজানে বহুবার কুরআন খতম করতেন। তাই আমাদের উচিত—

  • নিয়মিত তিলাওয়াত
  • অর্থ বুঝে পড়া
  • জীবনে বাস্তবায়ন

রমজানকে “শাহরুল কুরআন” বলা হয় কারণ—
১. এই মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে।
২. লাইলাতুল কদরের মহিমা কুরআনের সাথে সম্পর্কিত।
৩. নবী ﷺ রমজানে কুরআন অধিক পরিমাণে তিলাওয়াত করতেন।
৪. এই মাসেই কুরআনের শিক্ষা হৃদয়ে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে।

হে আল্লাহ! আমাদেরকে কুরআনের মানুষ বানিয়ে দিন। আমীন।