আমল কর্ণার

ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করাই এই ব্লগ সাইটের উদ্দেশ্য। আত্মশুদ্ধি ও তাসাউফ, দোয়া, দৈনিক আমল, মাসআলা, শিক্ষনীয় ঘটনাবলী, দৈনিক করণীয় সুন্নাহ, ইসলামিক বই পরিচিতি বিষয়ে নিয়মিত আপডেট পাওয়ার জন্য আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।

আল্লাহ তায়ালার কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল, ‘যে আমল সর্বদা করা হয় চাই তা কম হোক’ (বুখারি : ৬৪৬৫)।
যেকোনো আমল নিয়মিত করা ছিল প্রিয় নবী (সা.)-এর পছন্দের শীর্ষে।

আল-কুরআনের সূরার ফজিলত, অর্থ ও শিক্ষা

সূরা “আল ইমরান” : ফজিলত, অর্থ, তাফসির, উপকারিতা ও পড়ার সঠিক সময়
📚 সূরা আলে ইমরানের পরিচিতি পবিত্র কুরআনের তৃতীয় সূরা হলো সূরা আলে ইমরান (سورة آل عمران)। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূরা, যেখানে ঈমান, তাওহিদ, নবীদের ইতিহাস, ধৈর্য, আল্লাহর উপর ভরসা এবং মুসলিম সমাজের জন্য বহু...
সূরা আল-বাকারা (Surah Al-Baqarah): মূল বিষয়, ফজিলত, তাফসির, শিক্ষা ও পড়ার সঠিক সময়
📖 সূরা আল-বাকারা (Surah Al-Baqarah): মূল বিষয়, ফজিলত, তাফসির, শিক্ষা ও পড়ার সঠিক সময় পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে দীর্ঘ সূরা হলো সূরা আল-বাকারা (سورة البقرة)। এটি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূরা, যেখানে ঈমান, শরিয়াহ...
সূরা আল-ক্বদর (Surah Al-Qadr): মূল বিষয়, নামকরণ, ফজিলত, তাফসির, শিক্ষা ও পড়ার সঠিক সময়
মূল বিষয়, নামকরণ, ফজিলত, তাফসির, শিক্ষা ও পড়ার সঠিক সময় পবিত্র কুরআনের অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অর্থবহ একটি সূরা হলো সূরা আল-ক্বদর (سورة القدر)। এতে মাত্র পাঁচটি আয়াত রয়েছে, কিন্তু এই ছোট সূরাটিতে ইসলামের...
সূরা আল-কুরাইশ: অর্থ, ফজিলত, তাফসির, শিক্ষা ও বাস্তব প্রয়োগ
পবিত্র কুরআনের ছোট কিন্তু অত্যন্ত গভীর অর্থবহ সূরাগুলোর মধ্যে সূরা আল-কুরাইশ অন্যতম। মাত্র ৪টি আয়াত হলেও এই সূরার মধ্যে আল্লাহ তা’আলার অসীম অনুগ্রহ, কুরাইশ গোত্রের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ এবং মানুষের প্রতি আল্লাহর প্রতি...
সূরা আন-নাস: অর্থ, ফজিলত, তাফসির, শিক্ষা ও বাস্তব জীবনে প্রয়োগ
পবিত্র কুরআনের শেষ সূরা হলো সূরা আন-নাস। এটি অত্যন্ত ছোট হলেও এর শিক্ষা অত্যন্ত গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ। এই সূরাটি মানুষকে শিখায়—মানুষের অন্তরের গোপন কুমন্ত্রণা, শয়তানের প্ররোচনা এবং অশুভ শক্তি থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর...
সূরা ইখলাস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? কুরআন ও হাদিসের আলোকে
সূরা আল-ইখলাসের অর্থ, তাফসির, ফজিলত ও শিক্ষনীয় বিষয় পবিত্র কুরআনের ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূরাগুলোর মধ্যে সূরা আল-ইখলাস অন্যতম। মাত্র ৪টি আয়াত হলেও ইসলামের সবচেয়ে মৌলিক বিশ্বাস—তাওহীদ (আল্লাহর একত্ব)—এই...
সূরা ওয়াকিয়া পড়লে কি রিজিক বাড়ে? কুরআন ও হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা
সূরা আল-ওয়াকিয়া সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা | অর্থ, তাফসির ও শিক্ষনীয় বিষয় পবিত্র কুরআনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ সূরাগুলোর মধ্যে সূরা আল-ওয়াকিয়া অন্যতম। এই সূরাটি মূলত কিয়ামত, মানুষের পরিণতি, জান্নাত ও জাহান্নামের...

দোয়া ও জিকির

সহজ ১০টি জিকির
(১) প্রতিদিন ১০০ বার সুবহান আল্লাহ্ পাঠ করলে ১০০০ সাওয়াব লিখা হয় এবং ১০০০ গুনাহ মাফ করা হয়। (২) ‘আলহামদুলিল্লাহ’ মীযানের পাল্লাকে ভারী করে দেয় এবং সর্বোত্তম দোআ’। (৩) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সর্বোত্তম যিকর। (৪)...

দৈনিক করণীয় আমল

মৃত্যুর আগে পড়ার গুরুত্বপূর্ণ দোয়া

মৃত্যু মানব জীবনের অবশ্যম্ভাবী বাস্তবতা। ইসলাম মানুষের জীবনকে এমনভাবে পরিচালিত করতে শিক্ষা দেয় যাতে মৃত্যুর মুহূর্তে সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। কুরআন ও সহিহ হাদিসে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে পড়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া, যিকির এবং আমলের কথা...

শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার দোয়া | শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার দোয়া

ইসলামী আকিদা অনুযায়ী শয়তান মানুষের প্রধান শত্রু। সে মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য নানা কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) দেয়। কুরআন ও সহিহ হাদিসে শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন জিকির, দোয়া ও আধ্যাত্মিক পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। এই গবেষণামূলক প্রবন্ধে...

সকাল ও সন্ধ্যার যিকির: কেন প্রতিদিন পড়া জরুরি

ইসলামে যিকির (আল্লাহকে স্মরণ করা) একটি মৌলিক ইবাদত। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার যিকির একজন মুসলিমের দৈনন্দিন আধ্যাত্মিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কুরআন ও সহিহ হাদিসে এই যিকিরগুলোর গুরুত্ব বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো শুধু আধ্যাত্মিক প্রশান্তি দেয় না;...

দোয়া কবুল হওয়ার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত (কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে)

দোয়া কবুল না হওয়ার কারণ কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ, ফিকহ আলোচনা ও বাস্তব প্রয়োগ মানুষের জীবনে দোয়া একটি গভীর আধ্যাত্মিক শক্তি। ইসলামের দৃষ্টিতে দোয়া শুধুমাত্র চাওয়া বা প্রার্থনা নয়; বরং এটি আল্লাহর প্রতি বিনয়, বিশ্বাস এবং নির্ভরতার প্রকাশ।...

দৈনিক করণীয় সুন্নাহ

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো ইবাদত

বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো তথা যাবতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ আল্লাহর পক্ষ থেকে পৃথিবীবাসীর প্রতি সতর্কবার্তা নিয়ে আসে। আল্লাহতায়ালা এসবের মাধ্যমে জগৎবাসীকে পরীক্ষা করে থাকেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ দুর্বিপাকে বিপর্যস্ত মানুষদের প্রতি সচ্ছল নিরাপদ...

রোগী দেখতে যাওয়া রাসূল সা.-এর সুন্নাত

ইসলামে রোগী দেখতে যাওয়াকে সুন্নত বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে এ ব্যাপারে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, এক মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের পাঁচটি হক আছে। ১. সালামের জবাব দেওয়া ২. হাঁচির জবাব...

নামাজে সুতরাহ ব্যবহারের সুন্নত

নামাজি ব্যক্তির সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া নিষিদ্ধ ও গুনাহের কাজ। নামাজি ব্যক্তির সামনে দিয়ে মানুষের চলাচলের সম্ভাবনা থাকলে নামাজ শুরুর আগে সুতরা সামনে রেখে নামাজে দাঁড়ানো সুন্নত। কোনো বড় মসজিদে নামাজে দাঁড়ালে সামনে একটি বস্তু রাখা জরুরি। যার ফলে নামাজ...

ছোট ছোট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত

১. ভালো কিছু খাওয়া বা পান করা শেষে, কোনো শুভ সংবাদ শোনা হলে, কেউ ‘কেমন আছো’ জিজ্ঞেস করলে- তার জবাবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা সুন্নাত। (ইবনে মাজাহ : ৩৮০৫) ২. ভালো কিছু খাওয়া বা পান করার সময়, কোনো কিছু লেখা বা পড়ার সময়, কোনো কাজ শুরু করার সময়...
জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া
প্রথম দোআ:

 اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

 উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আঝিরনি মিনান নার।
 অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।’
ফজিলত: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর কথা বলার আগে সাত বার এ দোয়াটি পড়া। যদি কেউ ফজরের পর পড়ে এবং ঐ দিনের মধ্যে মারা যায়, ঐ ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। আর কেউ যদি মাগরিবের নামাজের পর এ দোয়াটি পড়ে এবং ঐ রাতে মারা যায় তবে তার জন্য জাহান্নাম হতে মুক্তি লিখে দেওয়া হয়। (মিশকাত, আবু দাউদ)

দ্বিতীয় দোআ:

 اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ’উযু বিকা মিনান্নার।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।
ফজিলত: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ৩ বার জান্নাত প্রার্থনা করে, জান্নাত আল্লাহর কাছে দুয়া করে, হে আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করো। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ৩ বার জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে, জাহান্নাম আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, হে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও”। (তিরমিযিঃ ২৫৭২, ইবনে মাজাহ ৪৩৪০)

তৃতীয় দোআ: কবর ও জাহান্নামের আযাব এবং জীবন, মৃত্যু ও দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোআ

‎اللَّهُــمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিন ‘আযা-বিল ক্বাবর, ওয়া মিন ‘আযা-বি জাহান্নাম, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল মামা-ত, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব থেকে, জাহান্নামের আযাব থেকে, জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্টতা থেকে। বুখারী ২/১০২, নং ১৩৭৭; মুসলিম ১/৪১২, নং ৫৮৮।
অডিও শুনুন
জান-মাল, দ্বীন-ঈমান হেফাযতের দোয়া
সকাল-সন্ধ্যায় নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করিলে ইহার বরকতে আল্লাহপাক তাহার দ্বীন-ঈমান, জান-মাল, আওলাদ-পরিজনকে হেফাযতে রাখেন এবং আমলকারীর অন্তর ইহাদের ব্যাপারে পেরেশানী ও উদ্বেগ হইতে মুক্ত হইয়া যায়। 

بِسْمِ اللَّهِ عَلَي دِيْنِيْ وَ نَفْسِيْ وَ وَلَدِيْ وَ اَهْلِيْ وَ مَالِيْ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আলা দ্বীনী ওয়া-নাফছী ওয়া-ওয়ালাদী ওয়া-আহলী ওয়া-মালী। ( কানযুল-উম্মাল ২য় খন্ড, ৬৩৬ পৃষ্ঠা )

যে দোয়ায় গুনাহ মাফ ও শয়তান থেকে রক্ষা
এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজের পর দশ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু… পড়বে, বিনিময়ে তার আমলনামায় চারজন গোলাম আজাদ করার সওয়াব লেখা হবে, দশটি নেকি লেখা হবে, দশটি গুনাহ মাফ হবে, দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে ও এ কালিমাগুলো সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য শয়তান থেকে হেফাজতের কারণ হবে। তেমনি মাগরিবের পর পড়লে অনুরূপ সওয়াব মিলবে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান থেকে হেফাজতে থাকবে।

لا إلهَ إلاَّ اللَّه وحْدهُ لاَ شَرِيكَ لهُ، لَهُ المُلْكُ، ولَهُ الحمْدُ، وَهُو عَلَى كُلِّ شَيءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু। ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।’
অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তারই, সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র তারই জন্য, আর তিনি সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৫১৮)

উদ্বেগ ও চিন্তামুক্তির দোয়া

حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

উচ্চারণ: হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজীম।
অর্থ: আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তারই ওপর আমি ভরসা করি। তিনিই মহা আরশের অধিপাতি।
‘যে ব্যক্তি সকালে সাত বার এবং বিকালে সাত বার এ দোয়া পাঠ করবে আল্লাহতায়ালা তাকে দ্বীন ও দুনিয়ার সব ধরনের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবেন। ’ -সুনানে আবু দাউদ: ৫০৮৩, কানজুল উম্মাল: ৫০১১
অডিও শুনুন
কোনো বিপদে পড়লে যে দোয়া পড়বেন
হজরত আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিপদাপদের সময় এ দোয়া পাঠ করতেন-

يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ

উচ্চারণ : ‘ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু বিরাহমাতিকা আসতাগিছ।’
অর্থ : হে চিরঞ্জীব! হে সকল বস্তুর রক্ষক! আমি তোমার রহমতের ওসিলায় তোমার সাহায্য প্রার্থনা করছি।’ (তিরমজি)

হজরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিপদ-মুসিবতের সময় এ দোয়া পাঠ করতেন-
উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আ’জিমুল হালিম; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আ’রশিল আ’জিম; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদি ওয়া রাব্বুল আ’রশিল কারিম।’
অর্থ : ‘আল্লাহ্ ব্যতিত সত্য কোনো মা’বুদ নেই, তিনি অতি মহান, অতি সহনশীল। আল্লাহ্ ব্যতিত কোনো সঠিক ইলাহ্ নেই, তিনি বিশাল আরশের মালিক। আল্লাহ্ ব্যতিত সত্য কোনো মা’বুদ নেই, তিনি আসমান-জমিনের এবং মহান আরশের মালিক।’ (বুখারি)

দোয়ায়ে ইউনুস (আ.): রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মাছের পেটে ইউনুস (আ.) এ দোয়া পড়ে আল্লাহকে ডেকে ছিলেন এবং মুক্তি পেয়েছিলেন। যদি কোনও মুসলিম বিপদে পড়ে এ দোয়া পাঠ করে, আল্লাহ তা কবুল করবেন। ’ (আহমাদ, তিরমিজি, মিশকাত, হাদিস নম্বর: ২২৯২)।
উচ্চারণ: ‘লাইলা-হা ইল্লা আনতা সুবহা-নাকা ইন্নি কুনতুমিনাজ্জালিমিন’ (সুরা আম্বিয়া: ২১/৮৭)
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া কোনও উপাস্য নেই, তুমি মহাপবিত্র। নিশ্চয়ই আমি সীমা লঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
অডিও শুনুন
তওবার দোয়া
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, আমি রাসুল সা.-এর চেয়ে আর কাউকে এটি অধিক পরিমাণে পড়তে দেখিনি।’

أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ: ‘আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতূবু ইলাইহি।’
অর্থ: ‘আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং তাঁর নিকট তওবা করছি।’

‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’
অর্থাৎ, ‘আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ইস্তিগফারটি তিনবার পড়তেন। (মিশকাত)

‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া তুবু ইলাইহি।’
অর্থাৎ, আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছ থেকে ফিরে আসছি।
এ ইস্তিগফার প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার পড়ার নিয়ম। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তওবা ও ইস্তিগফার করতেন। (বুখারি)

‘রাব্বিগফিরলি, ওয়া তুব আলাইয়্যা; ইন্নাকা আংতাত তাউয়্যাবুর রাহিম।’
অর্থাৎ, হে আমার প্রভু, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তওবা কবুলকারী করুণাময়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এ দোয়া একশবার পড়েছেন। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

‘আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া তুবু ইলাইহি।’
অর্থাৎ, আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই (তওবা করে) ফিরে আসি।
দিনের যেকোনো ইবাদত-বন্দেগি তথা ক্ষমা প্রার্থনার সময় এভাবে তওবা-ইস্তিগফার করা যেতে পারে। হাদিসে আছে, এভাবে তওবা-ইস্তিগফার করলে আল্লাহ–তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন, যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নকারী হয়। (আবু দাউদ, তিরমিজি, মিশকাত)

‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)
সহজ কয়েকটি দরুদ শরিফ
‘আল্লাহুম্মা সল্লিআলা মুহাম্মাদিউ ওয়ালা আলী মুহাম্মাদ- কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়ালা আলী ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুন মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিউ ওয়ালা আলী মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়ালা আলী ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুন মাজিদ।
অর্থ: ইয়া আল্লাহ! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুহাম্মদের পরিবার এবং পরিজনের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। যেভাবে রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহিম আলাইহিস সাল্লাম ও তার পরিবার পরিজনের ওপর। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত ও মহান। ইয়া আল্লাহ! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুহাম্মদের পরিবার এবং পরিজনের ওপর বরকত করুন। যেভাবে বরকত নাজিল করেছেন ইবরাহিম আলাইহিস সাল্লাম ও তার পরিবার পরিজনের ওপর। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত ও মহান। -সহিহ বোখারি

‘আল্লাহুম্মা সল্লিআলা মুহাম্মাদিউ ওয়ালা আলী মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়ালা আলী মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ফিল আলামিন ইন্নাকা হামিদুন মাজিদ।
অর্থ: ইয়া আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত নাজিল করুন, যেমনিভাবে ইবরাহিমের ওপর নাজিল করেছেন এবং পৃথিবীতে মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবার এবং পরিজনের ওপর বরকত নাজিল করুন, যেমনি ইবরাহিমের পরিবারের ওপর বরকত নাজিল করেছেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত মহান। ’ -সহিহ মুসলিম

আল্লাহুম্মা সল্লিআলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসূলিকা কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া বাকির আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা ওয়ালা আলী ইবরাহিমা।
অর্থ: ইয়া আল্লাহ! আপনার রাসূল ও বান্দা মুহাম্মদের ওপর রহমত নাজিল করুন, যেমনিভাবে ইবরাহিমের ওপর নাজিল করেছেন এবং মুহাম্মদের ওপর ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর বরকত নাজিল করুন, যেমনিভাবে বরকত নাজিল করেছেন ইবরাহিমের পরিবারের ওপর। ’ –সহিহ বোখারি
কুরআনে বর্ণিত মোনাজাত সমূহ
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيم
রব্বানা-তাকাব্বাল মিন্না-ইন্নাকা আনতাছ ছামী‘উল ‘আলীম।
হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে কবূল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী। (সূরা আল-বাকারাঃ ২:১২৭)

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
রব্বানাআ-তিনা-ফিদ্দুনইয়া-হাছানাতাওঁ ওয়া ফিল আ-খিরাতি হাছানাতাওঁ ওয়া কিনা-‘আযা-বান্না-র।
হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন। আর আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন। (সূরা বাকারাঃ ২:২০১)

رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
রব্বানা-ওয়ালা তুহাম্মিলনা-মা-লা-তা-কাতা লানা-বিহী ওয়া‘ফু‘আন্না-ওয়াগফিরলানা-ওয়ারহামনা-আনতা মাওলা-না-ফানসুরনা-‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন।
হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদেরকে মার্জনা করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আর আমাদের উপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন। (সূরা বাকারাঃ ২:২৮৬)

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
রব্বানা-লা-তুঝিগ কুলূবানা-বা‘দা ইয হাদাইতানা -ওয়াহাবলানা-মিল্লা দুনকা রাহমাতান ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহা-ব।
হে আমাদের রব, আপনি হিদায়াত দেয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা। (সূরা আল-ইমরানঃ ৩:৮)

رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
রব্বানা ইন্নানা আ-মান্না-ফাগফিরলানা-যুনূবানা-ওয়াকিনা‘আযা-বান্না-র।
হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমরা ঈমান আনলাম। অতএব, আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন। (সূরা আল-ইমরানঃ ৩:১৬)

رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
রব্বানা-জালামনাআনফুছানা-ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা-ওয়া তারহামনা-লানাকূনান্না মিনাল খা-ছিরীন।
হে আমাদের রব, আমরা নিজদের উপর যুলম করেছি। আর যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদেরকে দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব। (সূরা আরাফঃ ৭:২৩)
সব ধরনের পেরেশানী থেকে মুক্তির দোয়া
উচ্চারণ : ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু বিরাহমাতিকা আসতাগিস।
অর্থ : হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! আপনার রহমতের অসিলায় আমি সাহায্য কামনা করছি।

দ্বীন ও ঈমানের ওপর স্থির থাকার দোয়া

উচ্চারণ : ‘ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুবি, ছাব্বিত কালবি আলা দ্বীনিকা।’

অর্থ : ‘হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আপনি আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন।’

নামাজ

সিজদায়ে তিলাওয়াত

সিজদায়ে তিলাওয়াত কুরআন মাজীদের হক এবং গুরুত্বপূর্ণ ও ফযীলতপূর্ণ একটি ইবাদত। সিজদার আয়াত পাঠের পর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে...

Read More
তারাবির নামাজ

রমজান মাসের রাতে এশার ফরজ ও সুন্নতের পর এবং বিতরের আগে আদায়কৃত ২০ রাকাত বিশিষ্ট একটি বিশেষ সুন্নাত নামাজ, যা প্রতি চার...

Read More
জুম্মার নামাজ

সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন শুক্রবারে জোহরের পরিবর্তে জামাতের সাথে আদায়কৃত ২ রাকাত ফরজ নামাজ, যা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য অবশ্যই পালনীয়। খুতবার পর ইমামের...

Read More

রোজা

রাইয়ান দরজা: রোযাদারদের জন্য জান্নাতের বিশেষ সম্মান

📖 রাইয়ান দরজা কী? প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ বলেছেন— “নিশ্চয়ই জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি দরজা রয়েছে। কিয়ামতের দিন রোযাদাররা সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ...

Read More
রোজা ও সামাজিক ন্যায়বিচার

রোজার ফরজ হওয়া আল্লাহ তাআলা আল-কুরআন-এ ঘোষণা করেন— “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর—যাতে...

Read More

আত্মশুদ্ধি ও তাসাউফ

গুনাহের পার্থিব ক্ষতি
আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন আল্লাহর ইবাদত করার জন্য। কেউ যদি আল্লাহর হুকুম না মানে তাহলে জীবন নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদি সে তাওবা না করে, পাপ মোচন না করাতে পারে, পরকালে পাপের শাস্তি তো আছেই। কিন্তু দুনিয়াতেও পাপের অনেক প্রভাব আছে। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু ...
জবানের হেফাজতের গুরুত্ব ও ফজিলত
মহান আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যে জবান অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। সঠিক কাজে জবান ব্যবহার করা, অন্যায়, অসত্য ও হারাম থেকে জবানকে বিরত রাখা আল্লাহর দিদার লাভের সহজ উপায়। এক কথায় জবানের হেফাজত করা মুমিন জীবনে অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পবিত্র কুরআনের সুরা মুমিনুনের শুরুতে আল্লাহ তায়ালা খাঁটি ...
দান-সদকার যে প্রতিদান দুনিয়াতে দেওয়া হয়
দান-সদকা একটি মহান ইবাদত। এই ইবাদতের অসংখ্য পুরস্কারের কথা রয়েছে কোরআন-হাদিসে। দান-সদকার প্রতিফল শুধু আখেরাতের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, দুনিয়াতেও রয়েছে এর নানাবিধ উপকার। বিপদাপদ দূর হয় আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেন, ‘তোমরা অধিক হারে সদকা করো। কেননা বালা-মুসিবত সদকাকে অতিক্রম করতে পারে না।’ (বায়হাকি: ...
নফল ইবাদত নাজাতের জন্য যথেষ্ট কি?
নফল ইবাদত যতই ছোট হোক, তা যদি নিয়মিত করা হয় এবং অভ্যাসে পরিণত করা হয়, তখন তার সওয়াব বড় হয়ে যায়। নফল অর্থ অতিরিক্ত। অর্থাৎ তা ফরজ এবং ওয়াজিবের অতিরিক্ত। একে ফরজ ও ওয়াজিবের পরিপূরক হিসাবেও গণ্য করা হয়। নফল ইবাদত বর্জন না করা উচিত। কেননা ...
পবিত্র কুরআনের আলোকে কুদৃষ্টির চিকিৎসা
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মোমিন পুরুষদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য শুদ্ধতর। তারা যা কিছু করে, আল্লাহ সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত।’ (সুরা নুর : ৩০)। এ আয়াতে আল্লাহতায়ালা আমাদের কুদৃষ্টি ব্যাধির বর্ণনা দিয়েছেন। কুদৃষ্টি এমন এক ব্যাধি, যাতে ...
পারস্পরিক সুধারণা ইবাদততুল্য
মানুষের প্রতি সুধারণা পোষণ করা উত্তম ইবাদতের সমতুল্য। কারো প্রতি কখনো খারাপ ধারণা পোষণ করা ঠিক নয়। কুরআন ও হাদিসে মানুষের প্রতি খারাপ বা মন্দ ধারণা পোষণকে গোনাহের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিক ধারণা পোষণ করা থেকে দূরে থেকো। ...
পুরো দ্বীনের উপর আমল করতে হবে
আমরা মুসলমান। দ্বীন আমাদের মৌলিক ভিত্তি। দ্বীনের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের ঈমান ও আমলের সুউচ্চ সৌধ। আল্লাহ আমাদের রব। ইসলাম আমাদের ধর্ম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের রাসুল এবং আদর্শ। আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে, ইসলামকে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ...
প্রযুক্তি ব্যবহারে পাপ এড়িয়ে চলা
প্রযুুক্তি আল্লাহর নেয়ামত। প্রযুক্তির কল্যাণে কত কঠিন ও দুঃসাধ্য কাজ আমরা মুহূর্তেই সমাধান করতে পারছি। মানুষের সামনে প্রতিনিয়ত উন্মুক্ত হচ্ছে মহাবিশ্বের অপার বিস্ময়। আল্লাহর সৃষ্টিকে জানার এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার দারুণ সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আল্লাহর দেওয়া জ্ঞানবুদ্ধির সঠিক ব্যবহারের ফলেই এসব সম্ভব হচ্ছে। তাই আল্লাহর ...
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের উপায় ও মাধ্যম
বিজ্ঞানের উন্নতির এই যুগে দাওয়াতের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প সময়ে, অল্প কষ্টে অসংখ্য মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া যায়। আধুনিক মাধ্যমগুলোতে ইসলামের ছহীহ আক্বীদার মানুষ কম আসায় এক্ষেত্রে সুযোগ নিচ্ছে বিভিন্ন ভ্রান্ত দল ও গোষ্ঠী। তাদের থেকে তরুণ প্রজন্মকে ...
বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো ইবাদত
বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো তথা যাবতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ আল্লাহর পক্ষ থেকে পৃথিবীবাসীর প্রতি সতর্কবার্তা নিয়ে আসে। আল্লাহতায়ালা এসবের মাধ্যমে জগৎবাসীকে পরীক্ষা করে থাকেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ দুর্বিপাকে বিপর্যস্ত মানুষদের প্রতি সচ্ছল নিরাপদ মানুষদের কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে। আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে যাওয়া প্রতিটি বিবেকবান মানুষের অবশ্য কর্তব্য। ইসলামে রয়েছে ...
বিবাদ মীমাংসা করা একটি ইবাদত
জীবনে চলার পথে মানুষে মানুষে ঝগড়া-বিবাদ হয়। পাড়া প্রতিবেশীর মাঝে ভুল বোঝাবুঝি হয়। ঘর-সংসারে, পরিবারে মান অভিমান হয়। বন্ধু-বান্ধব ও আপনজনের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়। এসব পরিস্থিতিতে ইসলাম সবাইকে আপস-মীমাংসার তাগিদ দেয়। সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করার প্রতি উৎসাহিত করে। পরস্পরের মধ্যে ভালো সম্পর্ক পুনরায় গড়ে তোলার প্রতি ...
যাবতীয় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার উপায়
সবচেয়ে দামী আমল: গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলতেন, গুনাহ থেকে নিরাপদ থাকার মত সমকক্ষ আমল আমি কোনোটিকে মনে করি না। (আদাবুদদুনয়া ওয়াদদীন ১/৯৮) হাসান বসরী রহ. বলতেন, আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকার চাইতে উত্তম কোন ইবাদত আর কোনো ইবাদতকারী করতে পারিনি। ...

ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সহগবোধ্যভাবে উপস্থাপন করাই এই ব্লগ সাইটের উদ্দেশ্য। আত্মশুদ্ধি ও তাসাউফ, দোয়া, দৈনিক আমল, মাসআলা, শিক্ষনীয় ঘটনাবলী, দৈনিক করণীয় সুন্নাহ, ইসলামিক বই পরিচিতি বিষয়ে নিয়মিত আপডেট পাওয়ার জন্য আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।

[mc4wp_form id=556]

পবিত্র কোরআনের আলোকে নবী-রাসূলদের উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমূহ

হযরত শীষ (আ:)

নাম ও পরিচয় হজরত শীষ (আ:) হজরত হাবিল এর মৃত্যুর পাঁচ বছর পরে জন্মগ্রহণ করেন। হাবীলের ইন্তেকালের পর হজরত আদম (আ:) ও হজরত হাওয়া (আ:) পুত্র শোকে শোকাহত ও মর্মাহত ছিলেন। আল্লাহতায়ালা তাদের দুঃখ-চিন্তা দূর...

হযরত সালেহ (আঃ)

আদ জাতির ধ্বংসের প্রায় ৫০০ বছর পরে হযরত সালেহ (আঃ) কওমে সামূদ-এর প্রতি নবী হিসাবে প্রেরিত হন। সামূদ আরবের প্রাচীন জাতিগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় জাতি। আদ জাতির পরে এরাই সবচেয়ে বেশী খ্যাতি ও পরিচিতি অর্জন...

হযরত হূদ (আঃ)

 হযরত হূদ (আঃ) দুর্ধর্ষ ও শক্তিশালী ‘আদ জাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন। আল্লাহর গযবে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিশ্বের প্রধান ছয়টি জাতির মধ্যে কওমে নূহ-এর পরে কওমে ‘আদ ছিল দ্বিতীয় জাতি। হূদ (আঃ) ছিলেন এদেরই...

হযরত ইদ্রিস (আঃ)

ইদরীস (আঃ) ছিলেন একজন বিখ্যাত নবী। তাঁর নামে বহু উপকথা তাফসীরের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। যে কারণে জনসাধারণ্যে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। হযরত ইদরীস (আঃ) হযরত নূহ (আঃ)-এর পূর্বের নবী ছিলেন, না পরের...

হযরত ইউনুস (আ:)

হযরত ইউনুস বিন মাত্তা (আঃ)-এর কথা পবিত্র কুরআনের মোট ৬টি সূরার ১৮টি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। ইউনুস আলাইহিস সালামকে আসিরিয়ানদের হেদায়াতের জন্য ইরাকে পাঠানো হয়েছিল। এ কারণে আসিরীয়দেরকে ইউনুসের কওম বলা...

হযরত সোলায়মান (আ:)

হযরত দাঊদ (আঃ)-এর মৃত্যুর পর সুযোগ্য পুত্র সুলায়মান তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর আবির্ভাবের ন্যূনাধিক দেড় হাজার বছর পূর্বে তিনি নবী হন। সুলায়মান ছিলেন পিতার ১৯জন পুত্রের অন্যতম।...

বিভিন্ন মাসআলা

001
মিসওয়াকের ৭০টি ফায়দা ও উপকারিতা
মিসওয়াকের ৭০টি ফায়দা ও উপকারিতা ১. আল্লাহ তা’আলা সন্তুষ্ট হন। ২. ফেরেশতারা খুশি হন। ৩. ফেরেশতারা...
Read More
quarbani
কোরবানির প্রয়োজনীয় কিছু মাসয়ালা
কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি আদায় করা ওয়াজিব। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন...
Read More
তায়াম্মুম
তায়াম্মুম
ইবাদত পালনের জন্য ইসলামে পবিত্রতা অর্জনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পবিত্রতা অর্জন সাধারণত অজু, গোসল ইত্যাদির...
Read More
prayer-20220208130518
ফরজ সুন্নত ওয়াজিব নফল কী
শরিয়তের আদেশ-নিষেধ ও বিধানাবলি স্তরভেদে বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। আদেশসমূহ যথা—ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত ও মুস্তাহাব...
Read More
quran-tilawat
কুরআন তেলাওয়াতের আদব সমূহ
পৃথিবীর বুকে মানুষের জন্য আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার হচ্ছে কোরআনে কারিম। কোরআন তেলাওয়াত...
Read More

ইসলামিক বই পরিচিতি

No posts found.

ইসলামিক লেকচার

No posts found.
5

What's New?

মিসওয়াকের ৭০টি ফায়দা ও উপকারিতা ১. আল্লাহ তা’আলা সন্তুষ্ট হন। ২. ফেরেশতারা খুশি হন। ৩. ফেরেশতারা তার সাথে মোসাফাহা করেন। ৪. ফেরেশতারা …

রোজার ফরজ হওয়া আল্লাহ তাআলা আল-কুরআন-এ ঘোষণা করেন— “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের …

যাকাতের গুরুত্ব যাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। আল-কুরআন-এ আল্লাহ তাআলা বলেন— “তোমরা সালাত কায়েম কর এবং যাকাত প্রদান কর।” (সূরা আল-বাকারা: ৪৩) …

 রমজান: কুরআনের মাস আল্লাহ তাআলা বলেন: “রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে—মানবজাতির জন্য হিদায়াতস্বরূপ…” — আল-কুরআন, সূরা আল-বাকারা ২:১৮৫ এই আয়াত …

তাকওয়া কী? তাকওয়া শব্দের অর্থ—আল্লাহভীতি, আল্লাহর আদেশ পালন এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকা। এটি অন্তরের এমন একটি গুণ, যা মানুষকে সর্বদা সচেতন …

এই সাইট সংক্রান্ত লেখা আহবান

আপনার মূল্যবান লেখাটির বিনিময়ে যদি একজন মুসলমানের ও আখিরাতের কোন উপকারে আসে তাহলে নিজেকে স্বার্থক ভাবব।

Submit Here
সহিহ বুখারী পরিচ্ছদঃ ৭৭ | হাদিসের বিষয়: পোশাক-পরিচ্ছদ
সহিহ বুখারী পরিচ্ছদঃ ৭৭ | হাদিসের বিষয়: পোশাক-পরিচ্ছদ
যে ব্যক্তি অহঙ্কার ব্যতীত তার লুঙ্গি ঝুলিয়ে চলাফেরা করে আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ যে ব্যক্তি...
Read More
সহিহ বুখারী পরিচ্ছদঃ ১৯ | হাদিসের বিষয়: তাহাজ্জুদ
সহিহ বুখারী পরিচ্ছদঃ ১৯ | হাদিসের বিষয়: তাহাজ্জুদ
রাতের বেলায় তাহাজ্জুদ (ঘুম হতে জেগে) সালাত আদায় করা ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র...
Read More
সহিহ বুখারী পরিচ্ছদঃ ১০ | হাদিসের বিষয়: আযান
সহিহ বুখারী পরিচ্ছদঃ ১০ | হাদিসের বিষয়: আযান
আযানের সূচনা বর্ণনাকারীঃ আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, (জামা’আতে সালাত আদায়ের জন্য) সাহাবা-ই-কিরাম...
Read More
সহিহ বুখারী পরিচ্ছদঃ ৫৯ | হাদিসের বিষয়: সৃষ্টির সূচনা
সহিহ বুখারী পরিচ্ছদঃ ৫৯ | হাদিসের বিষয়: সৃষ্টির সূচনা
সৃষ্টির সূচনা বর্ণনাকারীঃ ‘ইমরান ইব্‌নু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন,আমি আমার উটনীটি দরজার সঙ্গে...
Read More
নিয়ত ও ইখলাস সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
নিয়ত ও ইখলাস সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
হাদিস নং-১ উমার বিন খাত্ত্বাব (রাঃ) বলেন, আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে,...
Read More